
মানিকগঞ্জে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং ভুক্তভোগীদের জন্য সেবা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের লক্ষ্যে একটি অ্যাডভোকেসি ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) বেলা ১১টার দিকে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা মিলনায়তনে ব্র্যাকের জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি প্রোগ্রামের সহযোগিতায় এ ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ব্র্যাকের জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি প্রোগ্রামের রিজিওনাল ম্যানেজার ফারজানা আক্তার একটি উপস্থাপনার মাধ্যমে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা বিষয়ক জরিপের ফলাফল, সরকারি সেবাসমূহের পরিচিতি এবং সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন। পরে অংশগ্রহণকারীরা এ বিষয়ে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী নাসরিন বলেন, “নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা শুধু একটি সামাজিক সমস্যা নয়, এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনেরও একটি বড় উদাহরণ। সহিংসতা প্রতিরোধে পরিবার, সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি সব সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ভুক্তভোগীরা যাতে দ্রুত ও সহজে সেবা পায়, সেজন্য বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। সচেতনতা বৃদ্ধি ও আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিক্তা খাতুন বলেন, “নারী ও শিশুদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের পাশাপাশি সমাজেরও দায়িত্ব। সহিংসতার কোনো ঘটনা গোপন না রেখে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। সরকারি সেবার পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”
উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শামসুন্নাহার বলেন, “তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ইতিবাচক মূল্যবোধ গড়ে তোলার মাধ্যমে সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব। যুবসমাজকে এ বিষয়ে সম্পৃক্ত করতে হবে।”
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের প্রোগ্রাম অফিসার পারভীন বেগম বলেন, “নারী ও শিশুদের জন্য সরকার বিভিন্ন সেবা ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব সেবার বিষয়ে সাধারণ মানুষের জানাশোনা বাড়ানো গেলে ভুক্তভোগীরা আরও সহজে সহায়তা পাবে।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. নজরুল ইসলাম, ব্র্যাকের আইনবিষয়ক কর্মকর্তা মো. তানভীর আহমেদ, কিশোরী ক্লাবের সদস্য, বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধি, স্বাস্থ্যকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
সভায় সমাপনী বক্তব্যে পাশা এনজিওর নির্বাহী পরিচালক ফরিদ খান নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “একটি সহিংসতামুক্ত সমাজ গঠনে সবার অংশগ্রহণ ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হবে।”