
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সদ্য পদোন্নতি পাওয়া এক অডিটরকে ঘুসের টাকা গ্রহণের অভিযোগে হাতেনাতে আটক করার ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের অডিটর হৃদয় মিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা এ অভিযোগকে ঘিরে শুরু হয়েছে প্রশাসনিক তৎপরতা।
রোববার (২১ জুন) সকালে ভৈরব উপজেলা পরিষদ চত্বরে নগদ অর্থ লেনদেনের সময় তাকে আটক করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডিজিএফআইয়ের কর্মকর্তা আবদুস সালাম ঘটনাস্থলে হৃদয় মিয়াকে টাকাসহ আটক করেন।
সূত্রগুলোর দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হৃদয় মিয়া অর্থ গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করেন। এরপর বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)কে জানানো হলে তাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে রাখা হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএমএইচ আজিমুল হক সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত অডিটর ঘুস লেনদেনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, ইউএনও বর্তমানে কিশোরগঞ্জে একটি সভায় রয়েছেন। তিনি ফিরে এলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তবে ঘটনার পেছনে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন হৃদয় মিয়া। তার দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি বলেন, তিনি অফিসে নিয়মিত আসা-যাওয়া করলেও কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজ করেন না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব প্রদীপ দাস অগ্রিম সহায়তা মঞ্জুরি-সংক্রান্ত একটি ফাইলের বিষয়ে সহযোগিতার বিনিময়ে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। পরে রোববার সকালে ফোন করে উপজেলায় ডেকে এনে তার হাতে ৭ হাজার টাকা তুলে দিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তাকে আটক করানো হয়।
অন্যদিকে হৃদয় মিয়ার এ অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইউনিয়ন সচিব প্রদীপ দাস। তিনি বলেন, ২১টি ফাইল নিষ্পত্তির জন্য হৃদয় মিয়া তার কাছে ২১ হাজার টাকা ঘুস দাবি করেছিলেন। সেই দাবিকৃত অর্থের অংশ হিসেবেই তিনি ২১ জুন সকালে ৭ হাজার টাকা দিয়েছেন।
উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সোহেল মিয়া বলেন, তিনি সম্প্রতি এ উপজেলায় দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। অডিটরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে অবগত হয়েছেন এবং ইউএনওর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম মামুনুর রশীদ বলেন, হিসাবরক্ষণ অফিসের অডিটরের বিরুদ্ধে ঘুস লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসন অবহিত হয়েছে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, ভৈরব উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে ফাইল অনুমোদন ও স্বাক্ষরের বিনিময়ে অর্থ দাবির অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়ভাবে আলোচিত ছিল। সর্বশেষ এই ঘটনায় সেই আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে এবং পুরো উপজেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।