
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়া ইউনিয়নে বালুবাহী ট্রাকের চালক ও মালিকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা এবং লাগাতার চাঁদাবাজির প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয় সড়ক। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে ভুক্তভোগীরা একটি প্রতিবাদী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। সড়কজুড়ে একটি নির্দিষ্ট চক্রের দীর্ঘদিনের এই চাঁদাবাজির কারণে বর্তমানে স্থানীয় ব্যবসায়ী, পরিবহন মালিক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।
মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তারা জানান, তালবাড়িয়া ও শামুখিয়া সরকারি রাস্তা ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে বালুবাহী ট্রাকগুলো যাতায়াত করছে। তবে সম্প্রতি তালবাড়িয়া ইউনিয়নের শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করার উদ্দেশ্যে রেজন ও রাজা কবিরাজের নেতৃত্বে আক্তার মোল্লা, সিহাব, ডাঙ মোল্লা, রনি ও তাদের সহযোগীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। চক্রটি নিয়মিত ট্রাক মালিকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করছে এবং চাঁদা দিতে রাজি না হলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ তোলা হয়।
নির্যাতনের শিকার ট্রাকচালক হান্নান মানববন্ধনে নিজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, "গত ২২ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শামুখিয়া সড়ক দিয়ে খালি ট্রাক নিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তার ট্রাকের গতিরোধ করেন।" তিনি আরও অভিযোগ করেন, "ওই ব্যক্তিরা তার কাছে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ও ট্রাকের হেলপারকে মারধর করা হয়। এ সময় তার কাছে থাকা কিছু নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং ট্রাকের সামনের গ্লাস ভাঙচুর করা হয়। পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।"
পরিবহন ব্যবসায়ী ও ট্রাক মালিক মো. কলম আলী জানান, এমন অরাজক পরিস্থিতির কারণে তালবাড়িয়া অঞ্চলের সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও ট্রাক মালিকরা তীব্র নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তিনি অনতিবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও সড়কে নিরাপদ পরিবেশ তৈরির দাবি জানান। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, এ বিষয়ে মিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকা তাদের হতাশ ও বিস্মিত করেছে।
আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, "এ ঘটনায় উভয় পক্ষ থেকেই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
সড়কে সব ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজি বন্ধ করে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে মানববন্ধন থেকে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।