
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় কুমিল্লা থেকে ঢাকাগামী মিয়ামি এয়ারকন পরিবহনের একটি বাসের যাত্রীদের ড্রাইভারসহ কয়েকজন মিলে মারধর করেছেন। এ সংক্রান্ত কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, হামলায় বাসের অন্তত চারজন যাত্রীর মাথা ফেটে গেছে।
এই ঘটনায় আহতরা হলেন:সোহেল (২৬), সিয়াস (২১), হাসিনা আক্তার (৪৫), নাসিমা বেগম (৪৮)।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, এক ব্যক্তি বাসে উঠে লোহার রড বা দণ্ডজাতীয় কিছু দিয়ে পিটিয়ে যাত্রীদের রক্তাক্ত করছেন। অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হামলায় দুই নারীসহ চারজনের মাথা ফেটে গেছে। সে সময় ভুক্তভোগী যাত্রীরা বাঁচার জন্য আকুতি জানাচ্ছিলেন।
ঘটনার নেপথ্যের কারণ নিয়ে খোঁজ করে জানা যায়, মিয়ামি এয়ারকন পরিবহনের একটি বাস কুমিল্লা থেকে ঢাকায় আসার পথে কুমিল্লার মাধাইয়া এলাকায় এক মোটরসাইকেল আরোহীকে ধাক্কা দেয়। এতে ওই আরোহী গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনা ঘটার পর বাসের যাত্রীরা চালককে বাস থামাতে বাধ্য করেন। সে সময় বাস চালকের সঙ্গে যাত্রীদের বেশ বাকবিতণ্ডা হয়। চালক গাড়ি থামালে স্থানীয় উৎসুক জনতা তাঁকে মারধর করে এবং পুলিশ এসে গাড়িটি থানায় নিয়ে যায়। সে সময় সুযোগ বুঝে চালক কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গজারিয়ায় তাঁর নিজ বাড়িতে চলে যান। এর কিছুক্ষণ পর পরিবহন কর্তৃপক্ষ অন্য একটি বাস পাঠিয়ে আটকে পড়া যাত্রীদের ঢাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করে।
এদিকে পূর্ববর্তী বাসের চালক স্থানীয় কিছু লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে মহাসড়কের গজারিয়া অংশের বাউশিয়া পাখির মোড় এলাকায় আগে থেকেই ওত পেতে থাকেন। আটকে পড়া যাত্রীরা নতুন বাসে করে বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে ওই এলাকায় পৌঁছালে আগের বাসের চালক বাসটি থামানোর সিগন্যাল দেন। বাসটি থামামাত্রই তিনি সঙ্গীদের নিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েন এবং দুর্ঘটনায় বাধা দেওয়া যাত্রীদের ওপর হামলা চালান। পরবর্তীতে যাত্রীরা ৯৯৯ নম্বরে কল দিলে গজারিয়া হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী বাসযাত্রী সাফায়েত হোসেন বলেন, "এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হলাম আমরা। মিয়ামি এয়ারকন পরিবহনের একজন চালক গজারিয়ায় গাড়ি থামিয়ে আমাদের সহযাত্রীদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়েছেন। হামলায় চার-পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।"
গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় আহত চারজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সোহেল নামে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে গজারিয়া হাইওয়ে থানার ওসি শাহ কামাল আকন্দ বলেন, "ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। খবর পাওয়া মাত্রই আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে যাই এবং আহতদের উদ্ধার করে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠাই। এ ঘটনায় জড়িতরা যাতে উপযুক্ত শাস্তি পায় সেজন্য ভুক্তভোগীদের থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি।"