
কক্সবাজার শহরের একটি হোটেলের বারে কথা-কাটাকাটিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় আরও এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশ হেফাজতে থাকা মোহাম্মদ সোলাইমান নামে ওই যুবককে চট্টগ্রাম নেওয়ার পথে শুক্রবার সকালে মৃত্যু হয়। এর আগে একই ঘটনায় নাজিবুল হক রাশেদ নামে আরও এক যুবক নিহত হন।
শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে গুরুতর আহত সোলাইমানকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজার শহরের ঝাউতলা এলাকার রেনেসাঁ হোটেলের বারে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে গুরুতর আহত নাজিবুল হক রাশেদকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত রাশেদ শহরের মধ্যম নুনিয়াছড়া এলাকার জয়নাল আবেদীন বহদ্দারের ছোট ছেলে। সোলাইমানের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে রাশেদসহ কয়েকজন যুবক রেনেসাঁ হোটেলের বারে মদ পান করছিলেন। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে বাইরে থেকে আরও কয়েকজন যুবক সেখানে এসে বারের দোতলায় গিয়ে রাশেদের ওপর হামলা চালান। এ সময় তাঁকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে হোটেলের বাইরেও ভাঙা বোতল দিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়।
গুরুতর আহত রাশেদকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার পর কয়েকজন পালিয়ে গেলেও শহরের বিজিবি ক্যাম্প এলাকার মোহাম্মদ সোলাইমান ওরফে সালমানকে আটক করে উত্তেজিত জনতা। পরে তাঁকে নিহত রাশেদের এলাকার নুনিয়াছড়ার ফিশারীঘাট এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে কয়েক দফা মারধর করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
পুলিশের হেফাজতে নেওয়ার পর সোলাইমানকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। পথেই শুক্রবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী দুই যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাশেদের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
পুলিশের হাতে ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজও এসেছে। এতে বৃহস্পতিবার রাতে রেনেসাঁ হোটেলের বারে কয়েকজন যুবককে একত্রিত হতে দেখা যায়। পরে হোটেলের বাইরে রাশেদের ওপর হামলার দৃশ্যও ফুটেজে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. অহিদুর রহমান বলেন, বারের ভেতরের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। ঘটনার সূত্রপাত কীভাবে এবং কারা এতে জড়িত ছিলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামতও সংগ্রহ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আলামত সংগ্রহসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত রেনেসাঁ হোটেলের বারটি বন্ধ থাকবে। ঘটনার সময় বারের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে কোনো ঘাটতি ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।