
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের জন্য প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। রোববার দুপুরে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে তাদের নমুনা নেয় রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগের একটি দল।
এ সময় রংপুর মেডিকেল কলেজের একজন টেকনোলজিস্ট ও একজন সহকারী উপস্থিত ছিলেন। পরে নমুনাগুলো পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হবে।
রংপুর মেডিকেল কলেজের টেকনোলজিস্ট মোহাম্মদ আশরাফ বলেন, ডোপ টেস্টের জন্য দুই আসামির ইউরিন স্পেসিমেন বা প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নমুনাগুলো পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হবে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও রংপুর মহানগর পুলিশের ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলী জানান, আদালত ডোপ টেস্টের আবেদন অনুমোদন করেছেন। আসামিরা কারাগারে থাকায় সেখানেই তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
রংপুর মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও ডিবির উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও স্পর্শকাতর। আসামিদের কারাগারের বাইরে আনা হলে তাদের ওপর হামলা বা যেকোনো সময় মব তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। এ কারণে রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের কাছে কারাগারে গিয়ে নমুনা সংগ্রহের অনুমতি চাওয়া হয়। অনুমতি পাওয়ার পর টেকনোলজিস্ট ও সহকারীকে সঙ্গে নিয়ে কারাগারে গিয়ে নমুনা নেওয়া হয়েছে।
গত শনিবার রাতে রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী এবং মাস্টার্স সম্পন্ন করা মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ইয়াবা সেবনের বিষয়টি দেখে ফেলায় এবং এতে বাধা দেওয়ায় প্রথমে গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়। এরপর পরিবারের বাকি সদস্যদের শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। একই ঘটনায় দুজন সাক্ষীও আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।