
তিনটি ফেরি নিয়ে যাত্রা শুরুর মাত্র তিন বছর না পেরোতেই পুরোপুরি ফেরিশূন্য হয়ে পড়েছে কুড়িগ্রামের চিলমারী-রৌমারী নৌপথ। সর্বশেষ ভরসা হিসেবে চলা ‘কদম’ ফেরিটিও মেরামতের কথা বলে নারায়ণগঞ্জের ডকইয়ার্ডে পাঠিয়ে দেওয়ায় বুধবার থেকে গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথে ফেরি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে চিলমারী নদীবন্দর ঘাট থেকে ‘কদম’ ফেরিটি নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চিলমারী বন্দরের পোর্ট কর্মকর্তা মাহবুব আলম তায়েফ।
এর আগে গত ১৪ জুলাই মেরামতের কারণ দেখিয়ে একই নৌপথ থেকে ‘কুঞ্জলতা’ ফেরিটি সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর এতদিন একমাত্র ‘কদম’ দিয়ে সীমিত পরিসরে ফেরি সার্ভিস চললেও সেটিও প্রত্যাহার করায় পুরো নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
নৌপরিবহন সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ‘কুঞ্জলতা’ ফেরির মাধ্যমে চিলমারী নদীবন্দরে ফেরি সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পরে ওই বছরের ৪ অক্টোবর বহরে যুক্ত হয় ‘বেগম সুফিয়া কামাল’। তবে মাত্র ২৫ দিনের মাথায় ধারণক্ষমতার বিষয়টি উল্লেখ করে সেটিও প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
এরপর একই বছরের নভেম্বরে চিলমারী-রৌমারী নৌপথে যুক্ত করা হয় ‘কদম’। কিন্তু সময়ের সঙ্গে একে একে ফেরিগুলো প্রত্যাহার করে ডকইয়ার্ডে পাঠানোয় মাত্র তিন বছরের মধ্যেই ফেরিশূন্য হয়ে পড়ল পুরো নৌপথ।
হঠাৎ ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দূরপাল্লার পণ্যবাহী যানবাহনের চালকেরা। ট্রাকচালক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ফেরি বন্ধ থাকলে বিকল্প দীর্ঘ পথে চলাচল করতে হয়। এতে অতিরিক্ত জ্বালানি ও সময় ব্যয়ের পাশাপাশি পচনশীল পণ্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারাও এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, নাব্য সংকটের কারণে নিয়মিত এমনিতেই দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এর মধ্যে একের পর এক ফেরি প্রত্যাহার করায় এ অঞ্চলের পরিবহনব্যবস্থা আরও সংকটের মধ্যে পড়েছে।
আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক নৌবাণিজ্যের সম্ভাবনাময় এই রুটে বারবার ফেরি সার্ভিস বন্ধ হয়ে যাওয়াকে প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। রেল, নৌযোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সাবেক সভাপতি নাহিদ হাসান বলেন, বড় বড় অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও হঠাৎ ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরকারি বাজেটের সুফল নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তিনি দ্রুত বিকল্প ফেরি চালুর পাশাপাশি ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্য সংকট সমাধানের দাবি জানান।
বিআইডব্লিউটিসির চিলমারী নদীবন্দরের সহকারী প্রকৌশলী (বাণিজ্য) আতিক সোহেল আকাশ বলেন, ফেরি ‘কদম’ ডকইয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে। মেরামত শেষ হলে এটি আবার চিলমারী-রৌমারী নৌপথে ফিরিয়ে আনা হবে।
তবে ফেরিটি ফিরতে অন্তত তিন মাস সময় লাগবে বলে জানান তিনি। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ পুরোপুরি ফেরিশূন্য থাকা অবস্থায় বিকল্প কোনো ছোট ফেরি কিংবা সাময়িক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে কি না জানতে চাইলে আতিক সোহেল আকাশ বলেন, বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।