
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শৌচাগারসহ বিভিন্ন স্থানের অপরিচ্ছন্নতা দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন। হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় তিনি এতটাই ক্ষুব্ধ হন যে, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও হারপিক এনে নিজেই শৌচাগার পরিষ্কার করার কথা বলেন।
হাসপাতালের পরিচালককে উদ্দেশ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘সুইপার আর হারপিক নিয়ে আসেন, আমি ক্লিন করি। যদি আমি পারি, তাহলে আপনার কাছে জানতে চাইব—আপনি কেন পারলেন না?’
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) কৃষিমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রায় ৫০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
পরিদর্শনে অপরিচ্ছন্নতা দেখে ক্ষোভ
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে যান কৃষিমন্ত্রী। এ সময় হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ, শৌচাগারসহ বিভিন্ন স্থানের অব্যবস্থাপনা ও অপরিচ্ছন্নতা দেখে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
কৃষিমন্ত্রী কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি। গত ১ সেপ্টেম্বর হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাও অনুষ্ঠিত হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় বিভিন্ন জায়গার অপরিচ্ছন্নতা দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন কৃষিমন্ত্রী। একপর্যায়ে হাসপাতালের পরিচালককে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘সুইপার আর হারপিকটা নিয়ে আসেন, আমি ক্লিন করব।’
‘টাইলসের ওপর কালো দাগ থাকার কথা নয়’
হাসপাতালের টাইলসের ময়লা ও কালো দাগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘টাইলসের ওপর কালো দাগ থাকার কথা নয়। হারপিক ব্যবহার করলে এসব দাগ পরিষ্কার হয়ে যায়।’
এরপর হাসপাতালের শৌচাগারগুলোর অবস্থা নিয়েও নিজের অসন্তোষের কথা জানান তিনি।
ভিডিওতে কৃষিমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘বাথরুমগুলোর জঘন্য অবস্থা। সব ফ্লোরে দেখব, বাথরুম আছে ছয়টা, এর মধ্যে পাঁচটি বন্ধ। অন্তত বাথরুমটা তো আপনারা ঠিক রাখবেন।’
এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘আই ওয়ান্ট ক্লিন রাইট নাউ।’
শুধু শৌচাগারের অপরিচ্ছন্নতা নয়, হাসপাতালের বৈদ্যুতিক পাখাগুলোর নাজুক অবস্থাও কৃষিমন্ত্রীর নজরে আসে। দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট থাকা পাখাগুলো দ্রুত মেরামতের জন্য হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালককে নির্দেশ দেন তিনি।
১১৭ বাথরুম সচল, ৩০টি ব্যবহারের অনুপযোগী
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জানতে চাইলে কুমেক হাসপাতালের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. শাহজাহান বলেন, বর্তমানে হাসপাতালের ১১৭টি বাথরুম সচল রয়েছে। আর ৩০টি বাথরুম ব্যবহারের অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে।
তিনি জানান, ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এসব বাথরুম ব্যবহারের উপযোগী করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
পরিচ্ছন্নতাকর্মীর ১৬৫ পদের ১০২টিই শূন্য
হাসপাতালের রোগী ও স্বজনের চাপের পাশাপাশি জনবল সংকটও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে বলে জানান ডা. মো. শাহজাহান।
তার ভাষ্য, বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ১ হাজার ৩৪৭ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। এসব রোগীর সঙ্গে একাধিক স্বজনও রয়েছেন। ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতির কারণে হাসপাতালের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
এর মধ্যে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মীর ১৬৫টি পদের বিপরীতে ১০২টি পদই শূন্য রয়েছে। জনবল সংকটের কারণে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান হাসপাতালের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত)।