
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় এক অপ্রাপ্তবয়স্ক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে আবুল কালাম আজাদ নামে এক মাদ্রাসাশিক্ষককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাকে অবরুদ্ধ করে রাখার সময় স্থানীয় কয়েকজন মারধর করেছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার জামজামি ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের চরপাড়া জামিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত আবুল কালাম আজাদ দামুড়হুদা উপজেলার উজিরপুর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে। চরপাড়া জামিয়া ইসলামিয়া কওমি মহিলা মাদ্রাসাটিতে পুরুষ ও মহিলা শাখার পাশাপাশি আবাসিক ও কিন্ডারগার্টেন শাখা রয়েছে। আবাসিক শাখায় শতাধিক ছাত্রী পড়াশোনা করে। প্রায় ১৫ বছর ধরে আবুল কালাম আজাদ সেখানে ‘বড় হুজুর’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার স্ত্রীও মাদ্রাসার মহিলা শাখায় শিক্ষকতা করেন। তারা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণেই বসবাস করেন।
অভিযোগকারী ছাত্রীর বাবা সাহানুর রহমানের দাবি, বিভিন্ন সময়ে তার মেয়েকে কুপ্রস্তাব দিতেন ওই শিক্ষক। বুধবার রাতে মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্রী হিসেবে থাকা অবস্থায় তার মেয়েকে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিষয়টি পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে তারা মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য হাফিজুর রহমানের কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চান। এ সময় হাফিজুর রহমান তাদের সঙ্গে ‘প্রমান কী’ আছে—এমন প্রশ্ন তুলে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে বিষয়টি আরও ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
একপর্যায়ে স্থানীয়রা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবুল কালাম আজাদ। তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সন্তানতুল্য মনে করে পড়াশোনা করিয়ে আসছেন। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান তিনি।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও সুধীজন বলেন, আবুল কালাম আজাদ এলাকায় ভালো মনের ও বুদ্ধিমান ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ বিশ্বাস করা কঠিন বলেও মন্তব্য করেন তারা। তবে ঘটনার পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মাদ্রাসাশিক্ষককে উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়েছে। অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার প্রকৃত বিষয় জানা যাবে এবং সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।