
আগামী সাত বছরে গাজা উপত্যকা থেকে প্রায় ১৮ লাখ ৬০ হাজার ফিলিস্তিনিকে তথাকথিত ‘স্বেচ্ছায় অভিবাসনের’ মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়ার বিতর্কিত পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছেন ইসরাইলের উগ্র ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।
‘ডিসএনগেজমেন্ট ৭১০’ নামে পরিকল্পনাটি ইসরাইলি সংবাদপত্র ‘ইয়েদিওথ আহরোনোথ’-এ প্রকাশের পর গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে এটি তুলে ধরেন বেন-গভির।
পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, প্রথম বছরেই গাজা থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার ফিলিস্তিনিকে সরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য থাকবে। তিন বছরের মধ্যে এই সংখ্যা ১১ লাখ ১০ হাজার এবং সাত বছরে প্রায় ১৮ লাখ ৬০ হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি বিশেষ মন্ত্রণালয় গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যেসব দেশ ফিলিস্তিনিদের গ্রহণ করবে, সেখানে তাদের পুনর্বাসনের জন্য আর্থিক সহায়তা বা ‘অবজর্পশন প্যাকেজ’ চালুর কথাও বলা হয়েছে।
পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে প্রাথমিক পর্যায়ে ইসরাইলের প্রায় ৩৩০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব এবং গন্তব্য দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে তহবিল বাড়িয়ে ৫ হাজার কোটি শেকেল বা ১ হাজার ৬৬০ কোটি ডলারে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া গাজা ছাড়তে আগ্রহী প্রতিটি ব্যক্তি বা পরিবারের ভ্রমণ ব্যয়, প্রাথমিক আবাসন, আইনি মর্যাদা, প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও ভিসা এবং সর্বোচ্চ ২৪ মাস পর্যন্ত কর্মসংস্থান সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
বেন-গভির দাবি করেছেন, ফিলিস্তিনিদের গ্রহণে প্রস্তুত বেশ কয়েকটি দেশ রয়েছে এবং গাজার অনেক বাসিন্দাই সেখান থেকে চলে যেতে চান।
তবে ‘ইয়েদিওথ আহরোনোথ’ জানিয়েছে, গাজা থেকে বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনিকে গ্রহণ করতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মতি দিয়েছে—এমন কোনো দেশের তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বেন-গভিরের দল পরবর্তী সরকার গঠনে যেকোনো জোটের সঙ্গে আলোচনার সময় এই পরিকল্পনাকে অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘ সংঘাতের পরও গাজা উপত্যকায় বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ ১৩ হাজার ফিলিস্তিনি বসবাস করছেন।