
পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, যারা গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই—এ কথা বলে লং মার্চ করছেন, এই লং মার্চ এখন কী হিসেবে জায়েজ? আমরা যেদিন শপথ নিয়েছি, সেদিন তারা উপস্থিত ছিলেন না। প্রথম দিন থেকে গত ছয় মাস পর্যন্ত এমন কোনো দিন নেই, যেদিন তারা প্রতিবাদ বা আন্দোলনের হুংকার দেননি কিংবা কোনো কর্মসূচি পালন করেননি। আজকে তারা লং মার্চ করছে, তবে জনগণ তাদের লং মার্চকে প্রত্যাখ্যান করেছে। কারণ এই লং মার্চে কিছু চিহ্নিত নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেছে। সাধারণ মানুষের এতে অংশগ্রহণ ছিল না।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপি আয়োজিত র্যালির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
র্যালিতে সদর ও চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।
সংসদে বিরোধী দল সুন্দর সুন্দর কথা বললেও বাইরে গেলে তারা ১৯৭১ সালের সময়ের রূপ ধারণ করে- উল্লেখ করে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, 'সংসদে আমির সাহেব বলেছেন, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ হয়ে বিচার চাইছি, কেন তাঁর পরিবারকে গালাগাল করা হয়েছে। তিনি আরও বলেছেন, কোন ইতররা এসব অপকর্ম করেছে, তাদের গ্রেপ্তারের জন্য আবেদন জানিয়েছেন।'
এ্যানি চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, একদিকে পাটওয়ারী সাহেবের বক্তব্যে দীর্ঘদিন ধরে তারেক রহমান, জিয়া পরিবার এবং বিএনপির নেতাদের নিয়ে অশালীন ও অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ জামায়াতের আমির কিংবা তাঁর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ বিরোধী দলের নেতারা একবারও তাঁকে এ ধরনের বক্তব্য থেকে বিরত থাকতে বলেননি।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক শিষ্টাচার তারা বোঝেন না। রাজনীতির মাঠে যারা ফ্যাসিবাদের মতো আচরণ করতে চান, তাদের মধ্যেই এ ধরনের বক্তব্য আসে।
মন্ত্রী বলেন, সংসদে এক ধরনের বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, আবার লং মার্চে গিয়ে ভিন্ন ধরনের বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। রাজনীতি, সমাজ ও বিবেকের সঙ্গে যায় না—এমন বক্তব্য রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বর্তমান সরকারের ছয় মাসের কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ছয় মাসের মধ্যে সব কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। একটি ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। তুষের আগুনের মধ্যে এখনো জ্বলছি। যদি পারতাম তাহলে ছয় মাসের মধ্যেই লোডশেডিং বন্ধ করে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতাম। কিন্তু এটা আসলে সম্ভব নয়। এখন গ্যাস নেই, গ্যাস এনে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হয়। আমরা জানি সবার কষ্ট হচ্ছে। আমাদেরকে আরো সময় দিতে হবে, এটা হলো বাস্তবতা, এটা লুকানোর কিছু নেই।
তিনি আরও বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এসব কাজে হাত দিলে বর্তমান সরকারের জন্য কাজগুলো সহজ হতো।
অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব সাহাব উদ্দিন সাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, বাফুফের সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি, বিএনপি নেতা এডভোকেট হাফিজুর রহমান, সদর (পূর্ব) উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাইন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজ, লক্ষ্মীপুর পৌর বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম লিটন ও সদর (পশ্চিম) বিএনপির সভাপতি মাহবুবুর রহমান খোকনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।