
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা সহ নানা অভিযোগ উঠেছে তবলছড়ি যতনকুমার কার্বারীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো: নূর নবীর বিরুদ্ধে ।
সরকারী স্কুল ঘর ও জায়গা ভাড়া দিয়ে টাকা আত্মসাৎ,ভর্তি ফি আদায়, বিশেষ কোচিংয়ের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেতন নেয়া এবং এক প্রতিবন্ধী খণ্ডকালীন শিক্ষকের বকেয়া বেতন না দিয়ে চাকরিচ্যুত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী খণ্ডকালীন সহকারী শিক্ষক মিজানুর রহমান মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত ২০১৪ সাল থেকে বিদ্যালয়ের এসএমসি কমিটির নিয়োগের মাধ্যমে মাসিক ২,৫০০ টাকা বেতনে খণ্ডকালীন সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষক তার ১৫ মাসের বেতন বকেয়া রেখে তাকে না জানিয়ে চাকরিচ্যুত করে অন্য শিক্ষক নিয়োগ দেন।
পরে ইউএনওর হস্তক্ষেপে তিনি ৬ মাসের বকেয়া বেতন পান এবং পুনরায় চাকরিতে যোগ দেন। কিন্তু এরপর আরও ২ মাস কাজ করার পর পূর্বের ৮ মাসসহ মোট ১০ মাসের বকেয়া বেতন চাইলে প্রধান শিক্ষক 'দিচ্ছি-দেব' বলে কালক্ষেপণ করতে থাকেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রধান শিক্ষক নূর নবী বিদ্যালয়ের বাজার মাঠে ব্যক্তিগতভাবে ৫টি প্লট তৈরি করে প্রতিটি থেকে ১ লাখ টাকা অগ্রিম ও মাসে ৯,০০০ টাকা করে ভাড়া আদায় করছেন। এছাড়া স্কুল মাঠে গরুর বাজার বসিয়ে সাপ্তাহিক ৩০০ টাকা, ৭ম থেকে ৮ম শ্রেণিতে ভর্তির নামে শিক্ষার্থী প্রতি ৫০০ টাকা আদায় এবং স্কুলের সরকারি সোলারের ৩টি ব্যাটারি বিক্রি ও স্কুলের পুরান ভবন ভাড়া দিয়ে সে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।
অপর দিকে ৫ম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী অবিভাবক অভিযোগ করে বলেন, গত প্রায় ৬ মাস ধরে বিশেষ কোচিং ফি বাবদ ৫শত টাকা করে দিতে হয়। সহকারী শিক্ষক হুমায়ুন বিশেষ ক্লাস করান বলে জানা যায়।
সরে জমিনে অনুসন্ধান কালে অথিকাংশ অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। তাছড়া পুরাতন স্কুল মাঠে বাজার প্লট ও দেওয়ার কথা বলে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে ৫০ হাজার থেকে দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে প্লট দিতে না পেরে কিছু টাকা ফেরৎ দেওয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে।
অভিযুক্ত শিক্ষক মোঃ নূর নবী অভিযোগের বিষয় কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননী। তবে ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের কোচিংয়ের কথা আংশিক স্বীকার করে বলেন , সহকারী শিক্ষক হুমায়ুন ক্লাস শেষে স্কুলে প্রাইভেট পড়ান। সে হিসেবে ৫শ তটাকা নেয়া হয় বলে জানান তিনি।
রহস্য জনক কারণে মাটিরাঙ্গা উপজেলা শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর হোসেন বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, কোনো বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার এখতিয়ার তার নেই। উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাই বক্তব্য দেবেন বলে জানান তিনি।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে তাহমিনা মিতু জানান, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।