
নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম হত্যার আগে নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন। হত্যার হুমকি পাওয়ার পর থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত ছেলেকে বাঁচাতে পারেনি পুলিশ- এমন অভিযোগ করেছেন তাঁর বাবা রবিউল করিম।
শাকিল হত্যার ঘটনায় নাটোর-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের বড় ছেলে ও গুরুদাসপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নূরুজ্জামান মিন্টুর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে গুরুদাসপুর আমলি আদালত এ আদেশ দেন।
গত ২০ এপ্রিল নিজের ফেসবুক পোস্টে শাকিল লিখেছিলেন, তাঁর জীবন নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। তাঁকে হত্যার জন্য কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং এ জন্য অর্থ দেওয়ার কথাও তিনি শুনেছেন। বিষয়টি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানিয়ে জিডি করেছেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর কিছু হলে ওই জিডির ভিত্তিতে মামলা করার অনুরোধও জানিয়েছিলেন শাকিল।
গত ১৪ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় চাঁচকৈড় বাজার থেকে ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন শাকিল। প্রথমে তাঁকে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, পরে রাজশাহী হয়ে ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
শাকিলের বাবা রবিউল করিম বলেন, হত্যার হুমকি পাওয়ার পর তাঁর ছেলে থানায় জিডি করেছিলেন। কিন্তু পুলিশ তাঁকে বাঁচাতে পারেনি। হত্যাকাণ্ডের পরও আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে রবিউল করিম বলেন, হত্যাকাণ্ডে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত।
শাকিল হত্যার ঘটনায় ১৯ অক্টোবর গুরুদাসপুর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন তাঁর বাবা। সোমবার রাতে গুরুদাসপুর বাজারসংলগ্ন একটি ভাড়া বাসা থেকে নূরুজ্জামান মিন্টুকে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিন্টুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালত পুলিশের পরিদর্শক আসমাউল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আদালতে মিন্টু নিজেই বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি চান। তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত নন বলে দাবি করেন এবং সঠিক তদন্তের আহ্বান জানান। অন্যদিকে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে বলেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামির সংশ্লিষ্টতা যাচাইয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
নিহত শাকিলের পরিবারকে সমবেদনা জানাতে মঙ্গলবার সকালে যান সংসদ সদস্য আবদুল আজিজ। এ সময় তিনি বলেন, তাঁর সন্তান এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাকেও বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
স্থানীয় ছাত্রদল ও যুবদলের কয়েকজন নেতার ভাষ্য, সংসদ সদস্যের দুই ছেলের পৃথক সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে এবং তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। শাকিল সংসদ সদস্যের ছোট ছেলে মাহমুদুজ্জামান সোহাগের অনুসারী ছিলেন বলে তাঁরা জানান। তবে হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।