
বরিশালে সড়ক নির্মাণকাজ বন্ধের হুমকি দিয়ে সাবঠিকাদারের কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতাসহ চারজনের বিরুদ্ধে। দাবিকৃত টাকা না পেয়ে ঠিকাদারকে মারধর এবং তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত বিএনপি নেতাসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে রোববার (৮ নভেম্বর) বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সাবঠিকাদার মো. রুস্তম হাওলাদার (৪৮)। এর আগে শনিবার (৭ নভেম্বর) রাতে বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাদলা প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্তরা হলেন—মো. মাহবুব মোল্লা (৪৫), মো. সাকিব হাওলাদার (৩৫), মো. সজিব হাওলাদার (২৫) ও মো. মুবিন মোল্লা (২২)। তাঁদের সবার বাড়ি মাধবপাশা ইউনিয়নে। তাঁদের মধ্যে মাহবুব মোল্লা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
অভিযোগে বলা হয়, রুস্তম হাওলাদার এয়ারপোর্ট থানাধীন মাধবপাশা ইউনিয়নের বাইপাস-হাদিবাসকাঠী সড়কের ২ হাজার ৬০০ মিটার পিচঢালাই নির্মাণকাজের সাবঠিকাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শনিবার রাতে বাদলা প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় যাওয়ার পথে অভিযুক্তরা তাঁর কাজে বাধা দেন। কাজ চালিয়ে যেতে হলে তিন লাখ টাকা দিতে হবে বলে দাবি করেন তাঁরা।
রুস্তম টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা ছেলেকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল, হুমকি ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তাঁর ব্যবহৃত প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ডিসকভার মোটরসাইকেল জোর করে নিয়ে যান।
তবে চাঁদা দাবি ও মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা মাহবুব মোল্লা বলেন, রুস্তমের কাছে তাঁর টাকা পাওনা রয়েছে এবং ওই সড়কের কাজেও তিনি অংশীদার। পাওনা টাকা না দেওয়ায় মোটরসাইকেলটি এনে নিজের কাছে রেখেছেন। বিষয়টি জ্যেষ্ঠ নেতারা বসে মীমাংসা করে দেবেন বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, চাঁদার টাকা না পেয়ে ঠিকাদারের মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।