.png)
বিশ্ববাজারের মন্দা ও দেশের জ্বালানি সংকটের মধ্যে সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে পোশাকশিল্পের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখছে খাতের শীর্ষ দুই সংগঠন। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ) এই সিদ্ধান্তকে ‘বিপর্যয়কর’ ও ‘আত্মঘাতী’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সংগঠন দুটির নেতারা সরকারের এই একতরফা সিদ্ধান্ত বাতিলের জোর আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুর রহিম, পরিচালক ফয়সাল সামাদ, পরিচালক মোহাম্মদ আবদুস সালাম, পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম, পরিচালক কাজী মিজানুর রহমান, পরিচালক মোহাম্মদ সোহেল, সাবেক সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলাম এবং বিজিএমইএর জনসংযোগ ও প্রচার কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদ কবির।
লিখিত বক্তব্য পাঠ করে বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান বলেন, “বিশ্ববাজারের মন্দা এবং অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকটের এই ক্রান্তিকালে সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপ করার অর্থ হলো দেশের প্রধান রপ্তানি খাতকে জেনেশুনে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া।”
বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘পোশাক খাত এখন আইসিইউ’তে আছে। পাটের পর এখন পোশাকশিল্প ধ্বংস হবে।’
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুযায়ী আমদানিতে শুল্ক আরোপের আগে স্থানীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সুস্পষ্ট প্রমাণ দেখাতে হয়, যা এই ক্ষেত্রে অনুসরণ করা হয়নি। নেতারা দাবি করেন, এটি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সেফগার্ড চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন। তারা আরও বলেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় দেশীয় স্পিনিং মিলগুলো প্রতি কেজি সুতায় প্রায় ৪০ সেন্ট বা ৪৬ টাকা বেশি দাম চাইছে, যা বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, নিট পোশাক খাত থেকেই বছরে প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় আসে, যা এই সিদ্ধান্তের ফলে বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। দেশীয় মিলগুলো সময়মতো উচ্চমূল্যের বিশেষায়িত সুতা সরবরাহে ব্যর্থ হলে এবং আমদানির সুযোগ সংকুচিত হলে উৎপাদন শিডিউল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন নেতারা।
তারা স্পষ্ট করে বলেন, দেশীয় শিল্প সুরক্ষার বিরোধিতা করেন না তারা। তবে সেই সুরক্ষা আমদানিতে বাধা সৃষ্টি করে নয়, বরং সরাসরি নগদ সহায়তা, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং স্বল্প সুদে ঋণের মাধ্যমে নিশ্চিত করা উচিত।
দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং কোটি মানুষের কর্মসংস্থান রক্ষার স্বার্থে সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপের এই ‘অযৌক্তিক’ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের জন্য সরকারকে জোরালো অনুরোধ জানান বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতারা।
— মেজর মো. সাইফুল ইসলাম, পিএসসি, সিএসসিএম (অব.), ভারপ্রাপ্ত সচিব, বিজিএমইএ