
অর্থনৈতিক চাপ সামাল দিতে জাহাজ নির্মাণ খাতকে বড় স্বস্তি দিলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন নির্দেশনায় ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো এখন সহজ শর্তে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ পাবে, যেখানে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ ১০ বছরে ঋণ পরিশোধের সুবিধা রাখা হয়েছে। শিল্পের কার্যক্রম সচল রাখা এবং রপ্তানি সক্ষমতা ধরে রাখতেই এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ সুবিধার জন্য আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সার্কুলারে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, ইউরোপে সামরিক অস্থিরতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যাঘাতের ফলে জাহাজ নির্মাণ শিল্পে নগদ প্রবাহ মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়েছে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বিশেষ পুনঃতফসিল সুবিধা চালু করা হলো।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যেসব ঋণ শ্রেণিকৃত বা খেলাপি হয়েছে, সেগুলো পুনঃতফসিল করতে হলে মোট ঋণের ৩ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিতে হবে। এর মধ্যে আবেদনকালে ১.৫ শতাংশ এবং বাকি ১.৫ শতাংশ পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।
এ ছাড়া ২০২৩ সালের সার্কুলারের আওতায় যেসব ঋণ ইতোমধ্যে পুনঃতফসিল হয়েছিল, সেগুলো আবার পুনর্গঠন করতে চাইলে মাত্র ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে সর্বোচ্চ আরও দুই বছর সময় বাড়ানোর সুযোগ থাকবে।
গ্রেস পিরিয়ড চলাকালে গ্রাহককে মূল ঋণের ওপর প্রযোজ্য সুদ মাসিক বা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পরিশোধ করতে হবে। আগের বকেয়া সুদ আলাদা একটি ব্লকড হিসাবে রাখা হবে এবং গ্রেস পিরিয়ড শেষ হলে তা সুদবিহীন কিস্তিতে পরিশোধ করা যাবে। নির্ধারিত কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ঋণ আবার নিয়ম অনুযায়ী খেলাপি হিসেবে শ্রেণিকৃত হবে।
সার্কুলারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠিত ঋণ থাকলেও প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসা ও রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে নতুন ঋণ নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে কোনো কম্প্রোমাইজ অ্যামাউন্ট দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকবে না। তবে জালিয়াতি, প্রতারণা বা ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের জন্য এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে ৬০ দিনের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে হবে। একই সঙ্গে বিশেষ পরিদর্শনের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে যে প্রতিষ্ঠানটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা পরিস্থিতির কারণে বাস্তবভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, আমদানি বিকল্প পণ্য উৎপাদন এবং বৈশ্বিক বাজারে রপ্তানির সম্ভাবনার কারণে জাহাজ নির্মাণ শিল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। শিল্পের গতি ধরে রাখা এবং একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে ঋণ আদায় নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ পুনঃতফসিল সুবিধা চালু করা হয়েছে।