
বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের জন্য অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রার সিন্ডিকেটেড ঋণের অবশিষ্ট অর্থ ছাড়ের অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রূপালী ব্যাংক পিএলসির অংশ হিসেবে থাকা ৩১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৬১ দশমিক ২৮ মার্কিন ডলার ঋণ ছাড়ের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে ঋণপত্র (এলসি) খোলার সুযোগও দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। একই সঙ্গে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সার্কুলার লেটার পাঠানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের অনুকূলে আগে অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রার সিন্ডিকেটেড ঋণে রূপালী ব্যাংক পিএলসির অংশের অবশিষ্ট ৩১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৬১ দশমিক ২৮ ডলার ছাড় করা যাবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে এলসি খোলার ক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ২৭কক (৩) ধারার বিধান কার্যকর হবে না।
তবে এ অনুমতির সঙ্গে শর্ত দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এ ঋণ সুবিধার বিপরীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো দায় সৃষ্টি হবে না। ভবিষ্যতে এ ঋণের বিপরীতে রূপালী ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তাও দাবি করতে পারবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, বিশেষ বিধানের আওতায় দেওয়া এ অনুমতির ফলে রূপালী ব্যাংক এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের অনুকূলে আগে অনুমোদিত সিন্ডিকেটেড ঋণের অবশিষ্ট অর্থ ছাড় করতে পারবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয় এলসি খোলার সুযোগও তৈরি হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ জানিয়েছে, ১৯ আগস্ট জারি করা প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের অবগতির জন্য পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ১২১ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ ব্যাংক এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তের ফলে এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের অনুকূলে রূপালী ব্যাংকের অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রার সিন্ডিকেটেড ঋণের অনছাড়কৃত অংশ ছাড়ের পথ খুলেছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয় আমদানি কার্যক্রমের জন্য এলসি খোলার সুযোগও তৈরি হয়েছে।
তবে এ ঋণ সুবিধা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো আর্থিক দায় থাকবে না বলে প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে। ফলে ঋণসংক্রান্ত ঝুঁকি ও দায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংককেই বহন করতে হবে।