
জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হারানো ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সংস্থাটির নতুন চেয়ারম্যান এ. কে. এম. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন এবং জনগণকে হতাশ করবেন না।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় এসব কথা বলেন তিনি।
এ. কে. এম. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আজ আমাদের প্রথম কার্যদিবস। আমরা কাজ শুরু করেছি। আমরা জনগণকে হতাশ করব না। ১৮ কোটি মানুষের প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা করব। দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে যথোপযুক্ত চেষ্টা করব।’
দুদকের নতুন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো চাপের মধ্যে নেই। আমরা কাজ শুরু করে দিয়েছি। ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে ভালো ফলাফল নিয়ে আসতে পারব।’
আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট নেতা-কর্মী, বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠী এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে দুদকে জমা হওয়া অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের সামনে এখনো ওরকম কোনো ফাইল আসেনি। আমরা কেবল বসছি। আমাদের হাতে ফাইল আসুক, কীভাবে কাজ করি তা দেখতে পারবেন।’
নতুন কমিশনের নিয়োগ নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলেছেন, তাঁদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নিয়োগ নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলেছেন, এটা তাদের ব্যর্থতা। আমি কাউকে তদবির করে আসিনি।’
নতুন কমিশনের কার্যক্রম মূল্যায়নে ফলাফলের দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম খান। তিনি বলেন, ‘বৃক্ষ তোমার নাম কী, ফলে পরিচয়। আমরা কী করব, তাও ফলাফলে দেখা যাবে।’
বুধবার সকাল ৯টার দিকে দুদক চেয়ারম্যান এ. কে. এম. আসাদুজ্জামান এবং দুই কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম খান ও সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া প্রথমবারের মতো কার্যালয়ে যোগ দেন। সকাল ১০টায় তাঁরা পূর্বনির্ধারিত মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সভায় দুদক সচিব সাইদুর রহমান, মহাপরিচালক এবং উপপরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সোমবার সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ. কে. এম. আসাদুজ্জামানকে দুদক চেয়ারম্যান এবং ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়াকে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
এ. কে. এম. আসাদুজ্জামান সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। দীর্ঘদিন হাইকোর্ট বিভাগে দায়িত্ব পালনের পর তিনি ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ থেকে অবসর নেন।