
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফরে গেলে তাকে প্রাপ্য মর্যাদা অনুযায়ী সম্মানজনক অভ্যর্থনা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, সফরটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং শেষ পর্যন্ত এর সুফল দুই দেশের মানুষের কাছে পৌঁছাবে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন দীনেশ ত্রিবেদী।
ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি সরাসরি দিল্লি গিয়েছিলেন। সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর একটি চমৎকার বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে সাক্ষাতের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘আপনি আমার পক্ষ থেকে তাদের বলতে পারেন, আপনার কাছে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস রয়েছে, বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন ভারত সফর করবেন তখন তাকে এমন সম্মানজনক অভ্যর্থনা দেওয়া হবে, যা তিনি প্রাপ্য এবং এটি একটি স্মরণীয় সফর হবে। শেষ পর্যন্ত এর সুফল মানুষের কাছে যাবে।’
ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত শুধু একটি সীমান্তই ভাগ করে নেয় না; দুই দেশ স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা ও সমতার বিষয়ও ভাগ করে নেয়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি একজন জনগণের মানুষ। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নির্বাচিত হওয়ায় তাকে অভিনন্দনও জানান তিনি।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীই প্রথম তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন এবং তিনিই প্রথম তাকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ পাঠান। এরপর ভারতের স্পিকার বাংলাদেশ সফর করেছেন এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বাংলাদেশে এসেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি এবং আমি খুব আশাবাদী। কিছু সমস্যা রয়েছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। আমি যেমন বলেছি, যদি সমস্যা না থাকে, তাহলে এটি গণতন্ত্র নয়, এটি গণতন্ত্র ছাড়া অন্য কিছু।’
ভারতীয় হাইকমিশনার আরও বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন মতপার্থক্য ও পার্থক্যের বিষয় নিয়ে বাংলাদেশের মন্ত্রীদের সঙ্গে ভারত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। একটি প্রাণবন্ত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এ ধরনের মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের উদ্বেগগুলো ভারত গভীরভাবে উপলব্ধি করে। এসব উদ্বেগ কমাতে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও পারস্পরিক সাক্ষাৎ প্রয়োজন।
বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী এবং কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) সফররত প্রতিনিধিদলের সম্মানে ভারতীয় হাইকমিশন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।