
মৎস্য অধিদপ্তরের আকস্মিক সিদ্ধান্তে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। ১০৩টি অনাপত্তিপত্র বা এনওসি বাতিল করে দেওয়ায় আমদানিকারকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। একই সঙ্গে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় পড়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
মৎস্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকের সই করা একটি চিঠিতে এনওসি বাতিলের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। নির্দেশনাটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হওয়ায় ভারত থেকে ইলিশ আমদানির চলমান প্রক্রিয়াও হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেছে।
১০৩ এনওসি বাতিলের চিঠি পেয়েছেন ব্যবসায়ীরা
বেনাপোল বন্দর ইমপোর্টার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি আমিনুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ১০৩টি এনওসি বাতিলের সিদ্ধান্তের বিষয়ে মৎস্য অধিদপ্তর থেকে তারা চিঠি পেয়েছেন। হঠাৎ করে আমদানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন বলেও জানান তিনি।
তবে কেন আকস্মিকভাবে ভারতীয় ইলিশ আমদানি বন্ধ করা হলো, সে বিষয়ে মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি।
ইলিশ আমদানি বন্ধের সম্ভাব্য কারণ নিয়ে আলোচনা
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আমদানি নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
তাদের মতে, আমদানি করা ভারতীয় ইলিশকে দেশীয় কিংবা পদ্মার ইলিশ হিসেবে বিক্রি করে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণার সুযোগ তৈরি হচ্ছিল। একই সঙ্গে কম মূল্য দেখিয়ে ইলিশ আমদানির মাধ্যমে অর্থ পাচারের সম্ভাবনাও থাকতে পারে।
এ ছাড়া দেশের নিজস্ব ইলিশ উৎপাদনের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ানোর লক্ষ্যেও আমদানি নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গুদামে থাকা ইলিশ নিয়ে বিপাকে আমদানিকারকরা
আমদানিকারক জিয়াউর রহমান বলেন, হঠাৎ করে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ায় তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
তার ভাষ্য, সীমান্তের ওপারে গুদামে আগে থেকেই কিনে রাখা ইলিশ এখন কম দামে সেখানেই বিক্রি করে দিতে হবে। এর সঙ্গে আমদানির বিভিন্ন আনুষঙ্গিক খাতে যে অফেরতযোগ্য ব্যয় হয়েছে, সেটিও আর ফেরত পাওয়া যাবে না। ফলে ব্যবসায়ীদের বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হবে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের কোয়ারেন্টিন পরিদর্শক আশওয়াদুল আলমও মৎস্য অধিদপ্তরের নির্দেশনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ১০৩টি এনওসি বাতিলের আনুষ্ঠানিক চিঠি তারা হাতে পেয়েছেন। অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকর করা হচ্ছে।
দুই মাসে আমদানি সাড়ে ৩ লাখ কেজির বেশি
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত দুই মাসে—জুলাই ও আগস্টে—বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে মোট ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ভারতীয় ইলিশ আমদানি করা হয়েছে।
আমদানি করা এসব ইলিশের আনুমানিক মূল্য ছিল ৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।