
দেশের বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়া চালু করতে নতুন নীতিমালা জারি করেছে সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম যোগদানের পর চাকরিকাল ন্যূনতম দুই বছর পূর্ণ হলে তবেই একজন শিক্ষক বদলির আবেদনের যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
গত বুধবার (২০ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬’ জারি করে। প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া। এর ফলে আগের ২০২৫ সালের নীতিমালাটি বাতিল বা রহিত করা হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া হবে অনলাইনে
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ সব এমপিওভুক্ত শিক্ষকের বদলি কার্যক্রম এখন থেকে সম্পূর্ণ অনলাইনের স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর প্রথমে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শূন্য পদের বিবরণ অনলাইনে প্রকাশ করে আবেদন আহ্বান করবে।
বদলি নীতিমালার প্রধান প্রধান শর্তাবলী:
ন্যূনতম সময়কাল: একবার বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর সেখানে ন্যূনতম ২ বছর চাকরি সম্পন্ন না করে পুনরায় বদলির আবেদন করা যাবে না।
সর্বোচ্চ সুযোগ: একজন শিক্ষক বা কর্মচারী তাঁর সমগ্র কর্মজীবনে সর্বোচ্চ তিনবার বদলি হওয়ার সুযোগ পাবেন।
প্রতিষ্ঠানের পছন্দ: আবেদনকারী শিক্ষক তাঁর কাঙ্ক্ষিত সর্বোচ্চ ৩টি প্রতিষ্ঠানের নাম ক্রমানুসারে উল্লেখ করতে পারবেন।
পারস্পরিক বদলি: বিশেষ ক্ষেত্রে পারস্পরিক বদলির জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
অযোগ্যতা: কোনো শিক্ষকের এমপিও (MPO) স্থগিত, সাময়িক বরখাস্ত বা ফৌজদারি মামলা চলমান থাকলে তিনি বদলির অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
সীমাবদ্ধতা: একটি প্রতিষ্ঠান থেকে এক বছরে সর্বোচ্চ দুজন শিক্ষক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বদলির সুযোগ পাবেন। তবে একই বিষয়ে একই বছরে একজনের বেশি শিক্ষককে বদলি করা যাবে না।
অগ্রাধিকার নির্ধারণের সূচক
কোনো একটি শূন্য পদের বিপরীতে একাধিক আবেদনকারী থাকলে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার কয়েকটি নির্দিষ্ট সূচকের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করবে। সূচকগুলো হলো: নারী, দূরত্ব, স্বামী/স্ত্রীর কর্মস্থল (যদি স্বামী/স্ত্রী সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকেন) এবং জ্যেষ্ঠতা। এক্ষেত্রে দূরত্ব পরিমাপের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় অনুসৃত মডেল ব্যবহার করা হবে।
আবেদনের এলাকা:
আবেদনকারী শিক্ষক প্রথমে তাঁর মূল চাকরির আবেদনে উল্লেখ করা নিজ জেলায় বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। নিজ জেলায় পদ শূন্য না থাকলে নিজ বিভাগের যেকোনো জেলায় আবেদন করা যাবে।
প্রশাসনিক দায়িত্ব ও আর্থিক সুবিধা
নীতিমালায় আন্তঃজেলা শিক্ষক বদলির দায়িত্ব কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন আঞ্চলিক পরিচালক এবং আন্তঃবিভাগ বদলিসহ অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষদের বদলির দায়িত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি) ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। তবে সরকার জনস্বার্থে যেকোনো শিক্ষককে যেকোনো সময় বদলি করার অধিকার সংরক্ষণ করে।
বদলিকৃত শিক্ষকদের ইনডেক্স (Index) পূর্বের প্রতিষ্ঠান থেকে নতুন প্রতিষ্ঠানে অনলাইনেই ট্রান্সফার হবে এবং তাদের এমপিও ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধাদি পূর্বের মতোই বজায় থাকবে।
১০ দিনের মধ্যে অবমুক্তির নির্দেশ
বদলির আদেশ জারির ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধান বা আঞ্চলিক পরিচালক শিক্ষকের অবমুক্তি (রিলিজ) নিশ্চিত করবেন। অবমুক্ত হওয়ার পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। অবমুক্তি হতে যোগদান পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়কালটি নিয়মিত কর্মকাল হিসেবেই গণ্য হবে বলে নীতিমালায় স্পষ্ট করা হয়েছে।