
এনটিআরসিএর সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিজ নিজ এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ নিশ্চিত করতে নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ডা. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, সুপারিশপত্র নিয়ে শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলে সংশ্লিষ্ট পরিচালনা পর্ষদ তাদের নিয়োগ দিতে বাধ্য থাকবে। একই সঙ্গে এক দশক ধরে ঝুলে থাকা ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের পদোন্নতি জটিলতারও শিগগির সমাধান হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার মনোহরপুর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক শিক্ষক সমাবেশে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
ডা. এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়নে নিয়মিত শিক্ষক প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শূন্যপদ দ্রুত পূরণ করতে হবে। এ লক্ষ্যেই এনটিআরসিএর সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা যাতে সহজেই নিজ এলাকার প্রতিষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন, সে জন্য পরিচালনা পর্ষদের ওপর বাধ্যবাধকতা আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, আইনি জটিলতায় দীর্ঘদিন আটকে থাকা ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের পদোন্নতির বিষয়টিও এখন সমাধানের পথে রয়েছে।
কচুয়া উপজেলাকে শিক্ষার আদর্শ মডেল হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০২৭ সালের চূড়ান্ত পরীক্ষার কয়েক মাস আগে একই ধরনের প্রশ্নপত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ওপর প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে এসব পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
শিক্ষাব্যবস্থায় আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, পরীক্ষা গ্রহণ এবং উত্তরপত্র মূল্যায়নে নতুন পদ্ধতি চালুর প্রস্তাব দেন তিনি। এ ব্যবস্থায় উপজেলাভিত্তিক কমিটি গঠন করে এক প্রতিষ্ঠানের উত্তরপত্র অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে।
শিক্ষার্থীদের কোচিংনির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শ্রেণিকক্ষের নির্ধারিত সময়ের আগে বা পরে বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট এলাকার অবসরপ্রাপ্ত বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকদের এ কাজে সম্পৃক্ত করার পরামর্শ দেন তিনি।
এ ছাড়া সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীরা যাতে অযথা বাইরে সময় নষ্ট না করে এবং নিয়মিত পড়াশোনায় মনোযোগ দেয়, সে বিষয়ে শিক্ষকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘এনটিআরসিএর সুপারিশসংক্রান্ত সনদ নিয়ে শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে হাজির হলে পরিচালনা পর্ষদ তাঁদের নিয়োগ দিতে বাধ্য থাকবে।’