
স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদ ও পার্শ্ববর্তী আভিলা প্রদেশে ভয়াবহ দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শুধু দাবানলকে কেন্দ্র করে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে সরকার। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন দমকলকর্মীরা, আর নিরাপত্তার স্বার্থে ইতোমধ্যে ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে স্পেন সরকার জাতীয় জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা দেয়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সান মার্তিন ও ভিয়া দেল প্রাদো এলাকায় শুরু হওয়া একাধিক দাবানল একত্রিত হয়ে প্রায় ৫০ কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত হয়েছে। প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে জরুরি অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে আবাসনের সংকট দেখা দেওয়ায় অনেককে স্কুল ও জিমনেশিয়ামের মেঝেতে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিতে হচ্ছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সহযোগিতা চেয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। এরই মধ্যে গ্রিস দুটি অগ্নিনির্বাপণ বিমান পাঠাতে সম্মতি দিয়েছে।
স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা জানিয়েছেন, জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার ফলে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সামরিক বাহিনীর দুর্যোগ মোকাবিলা ইউনিটকে উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে যুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে দাবানলের প্রভাবে পর্যটকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় স্পেনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পরিচালিত রেস্তোরাঁ ব্যবসাও ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।