
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মধ্যেই ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাতের মাত্রা বেড়েছে। হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত হোদেইদা বন্দরনগরীতে বড় ধরনের বিমান হামলার অভিযোগ উঠেছে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে। এ হামলার জন্য রিয়াদকে দায়ী করে ‘কঠোর ও উপযুক্ত জবাব’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে হুথি-নিয়ন্ত্রিত সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
শনিবার (২৫ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
হুথি-নিয়ন্ত্রিত সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার (২৪ জুলাই) গভীর রাতে হোদেইদায় চালানো বিমান হামলার ‘মারাত্মক পরিণতি’ ভোগ করতে হবে সৌদি আরবকে। বিবৃতিতে বলা হয়, এই হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
মন্ত্রণালয়ের দাবি, হোদেইদাকে লক্ষ্যবস্তু করার মাধ্যমে সৌদি আরব চলমান সংকটে ‘উত্তেজনার জবাবে আরও উত্তেজনা’ সৃষ্টির নীতি গ্রহণ করেছে।
হুথি-সমর্থিত আল মাসিরাহ টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, হামলায় টেলিযোগাযোগ কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়। একই সঙ্গে কামারান দ্বীপেও হামলার খবর জানানো হয়েছে। সেখানে এক নারী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে সংবাদমাধ্যমটি।
এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, হোদেইদা বন্দর এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বন্দরটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
হোদেইদা বন্দর হুথি-নিয়ন্ত্রিত উত্তর ইয়েমেনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বন্দর দিয়েই ওই অঞ্চলে অধিকাংশ বাণিজ্যিক পণ্য ও মানবিক সহায়তা পৌঁছে থাকে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি চলমান উত্তেজনার জন্য হুথিদের দায়ী করেছেন। তিনি লোহিত সাগরে জাহাজে হুথিদের হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত ও বেপরোয়া’ আখ্যা দিয়ে বলেন, জোট প্রয়োজনীয় সব ধরনের সামরিক ব্যবস্থা অব্যাহত রাখবে। হুথিরা তাদের ‘শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড’ চালিয়ে গেলে কঠোরভাবে তা মোকাবিলা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এর আগে বুধবার (২৩ জুলাই) হুথিরা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে লোহিত সাগরে কয়েকটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালায়। এতে অন্তত একটি ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হুথিদের দাবি, জাহাজগুলো তাদের ঘোষিত অবরোধ অমান্য করেছিল।
গত ২০ জুলাই লোহিত সাগরের ওই নৌপথে অবরোধ ঘোষণা করে হুথিরা। এর এক সপ্তাহ আগে সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা এ পদক্ষেপ নেয় এবং ওই হামলার জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করে আসছে।