
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন প্রতি পাঁচ বছরে একবার অনুষ্ঠিত হয়। রাজ্যে মোট ২৯৪টি আসন রয়েছে, এবং সরকার গঠনের জন্য দরকার হয় অন্তত ১৪৮টি আসন।
রাজ্যে আরও এক ভোটের লড়াইয়ের দামামা বেজে গিয়েছে। প্রস্তুতিও তুঙ্গে। ভোটযুদ্ধের আগে শাসক-বিরোধী উভয়েই নীল নকশা প্রায় ছকে ফেলেছে। কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে, ২৯৪টি আসনে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা মোটের উপর প্রায় নিশ্চিত।
চমকও রয়েছে কিছু আসনে। তবে বিরোধীদের প্রস্তুতি তুলনামূলক অনেকটাই কম। প্রার্থী তালিকা নিয়ে জনমানসে কৌতূহলের শেষ নেই। এবারও কি প্রার্থী তালিকায় তারকার ভিড় নাকি অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের উপর ভরসা রেখেই ভোট বৈতরণী পার করতে চাইছে তৃণমূল ও বিজেপি, তা নিয়ে চলছে জোর জল্পনা।
প্রথমেই নজর রাখা যাক তৃণমূলের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকার দিকে। শোনা যাচ্ছে, এবারও বারাকপুর কেন্দ্র থেকেই টিকিট পেতে পারেন রাজ চক্রবর্তী। ছবি নিয়ে ব্যস্ততা থাকলেও, বিধায়ক হিসাবে দায়িত্ব পালনে কোনও অবহেলা করেননি তিনি।
এলাকায় জনসংযোগ রক্ষা থেকে উন্নয়ন – কিছুতেই খামতি রাখেন না। আবার সম্প্রতি রাজ্যের একাধিক প্রকল্পের কথা তুলে ধরা ‘লক্ষ্মী এল ঘরে’র বিপুল সাফল্য যে তাঁর বিধায়কের টিকিট লাভের লড়াই খানিকটা মসৃণ করতে পারে বলেই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
ছাব্বিশের বিধানসভা ভোট ঘিরে ওয়েস্ট বেঙ্গল–এর রাজনৈতিক ময়দান ইতিমধ্যেই গরম। শাসক দল অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস ও বিরোধী ভারতীয় জনতা পার্টি—দুই শিবিরেই প্রার্থী তালিকা নিয়ে চলছে জোর জল্পনা। বিশেষ করে, তারকাদের উপস্থিতি থাকবে কি না, তা নিয়েই কৌতূহল বেশি।
তৃণমূলের সম্ভাব্য তারকা মুখ
রাজ চক্রবর্তী: শোনা যাচ্ছে, ফের বারাকপুর কেন্দ্র থেকেই টিকিট পেতে পারেন এই পরিচালক-প্রযোজক। বিধায়ক হিসেবে এলাকায় সক্রিয় ভূমিকা, জনসংযোগ ও উন্নয়নমূলক কাজ তাঁকে এগিয়ে রাখছে। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের প্রচারে তাঁর অংশগ্রহণও গুরুত্ব পাচ্ছে।
জুন মালিয়া: আগেরবারের মতো এবারও তাঁকে ঘাটাল বা সংলগ্ন কোনো কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হতে পারে বলে আলোচনা চলছে। সংগঠন ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে তাঁর সক্রিয়তা দলকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।
সায়নী ঘোষ: যুব নেতৃত্বের অন্যতম মুখ। সংগঠনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে আবারও গুরুত্বপূর্ণ আসনে দেখা যেতে পারে তাঁকে।
বিজেপির সম্ভাব্য তারকা কৌশল
২০২১-এর ভোটে একাধিক তারকাকে প্রার্থী করেছিল ভারতীয় জনতা পার্টি। এবারও সেই কৌশল বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা রয়েছে।
লকেট চট্টোপাধ্যায়: দলের পরিচিত মুখ। সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় থাকায় তাঁকে ফের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যেতে পারে।
রুদ্রনীল ঘোষ: রাজনৈতিকভাবে সরব। প্রচারে তাঁর উপস্থিতি দল ব্যবহার করতে পারে।
তারকা বনাম সংগঠন
বিশ্লেষকদের মতে, তারকা প্রার্থীরা প্রচারে গতি আনেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করে সাংগঠনিক শক্তি ও স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা। ফলে তৃণমূল অভিজ্ঞ ও বর্তমান বিধায়কদের উপর বেশি ভরসা রাখতে পারে, আর বিজেপি নতুন মুখ ও তারকার মিশ্রণ আনতে পারে।
তবে এখনো পর্যন্ত কোনো দলই আনুষ্ঠানিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেনি। ফলে সবটাই জল্পনা। ভোটের দিন যত এগোবে, ততই স্পষ্ট হবে—ছাব্বিশের লড়াইয়ে তারকার ঝলক বেশি, নাকি অভিজ্ঞ রাজনীতির ভার।