খুলনার ব্যান্ড সংগীত অঙ্গনে ২০২০ সালের পর থেকে এক নতুন স্রোত বা জোয়ার তৈরি হয়েছে, যেখানে মৌলিক সৃষ্টির মাধ্যমে উঠে আসছে একের পর এক উদীয়মান ব্যান্ড। এই পরিবর্তনের ভেতরেই অনলাইন ও বাস্তব দুই পরিসর মিলিয়ে ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে ‘খুলনা ব্যান্ড মিউজিক ফ্যান্স কমিউনিটি’ বা সংক্ষেপে কেবিএমএফসি, যা খুলনার সংগীতকে দেশব্যাপী পরিচিত করার একটি সংগঠিত প্রচেষ্টা হিসেবে কাজ করছে।
২০২৪ সালের ১২ জানুয়ারি মোহাম্মদ সাগর হোসেনের উদ্যোগে যাত্রা শুরু করা এই প্ল্যাটফর্মটি শুরু থেকেই খুলনার ব্যান্ড সংগীতকে ডিজিটাল মাধ্যমে আরও বিস্তৃতভাবে উপস্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। মূলত এটি একটি প্রমোশনাল ও কনটেন্টভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে স্থানীয় ব্যান্ড শিল্পীদের গান, লাইভ পারফরম্যান্স এবং কনসার্ট নিয়মিতভাবে প্রচার করা হয়। পাশাপাশি গানভিত্তিক সৃজনশীল ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করে নতুন শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
খুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে ব্যান্ড সংগীতের যে পুনর্জাগরণ ঘটেছে, সেখানে নতুন প্রজন্মের ব্যান্ডগুলো নিজেদের মৌলিক কাজ নিয়ে সামনে আসছে। এই উদীয়মান শিল্পীদের জন্য নির্ভরযোগ্য প্রমোশনাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবেই কাজ করছে এই কমিউনিটি, যেখানে তাদের কাজকে দৃশ্যমান করা এবং শ্রোতার সঙ্গে সংযোগ তৈরি করাই মূল লক্ষ্য।
শুধু অনলাইনেই নয়, মাঠপর্যায়ের আয়োজনেও সক্রিয় রয়েছে এই উদ্যোগ। ২০২৪ সালের ‘জরুরি সংযোগ’ কনসার্টে তাদের সম্পৃক্ততা ছিল উল্লেখযোগ্য। এরপর ২০২৬ সালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাগ কনসার্টে তারা প্রমোশনাল পার্টনার হিসেবে কাজ করে। এছাড়া ভৈরবী ও কৃষ্টি সহ খুলনার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গেও একাধিক আয়োজন করেছে তারা।
এই উদ্যোগকে ঘিরে স্থানীয় শিল্পীদেরও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। ব্লাডসেল ব্যান্ডের সদস্য আশিক ইমরান বলেন, ‘এগিয়ে যাও কেবিএমএফসি। ভবিষ্যতে তোমাদের আরও বেশি সাফল্য কামনা করি।’
দুখু মিয়া ব্যান্ডের ভোকাল আবির বলেন, ‘যারা অক্লান্ত পরিশ্রম আর মেধা দিয়ে খুলনার ব্যান্ড সংগীতকে সামনে আনছেন, তাদের সবার আগে ধন্যবাদ জানাই। আপনারা আছেন বলেই আমরাও আছি। আপনাদের উদ্যোগটি সত্যিই চমৎকার, শুভকামনা রইল।’
স্থানীয় শিল্পীদের পাশাপাশি দেশের অনেক স্বনামধন্য ব্যান্ড ও সংগীতশিল্পীও এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বলে জানা যায়। মরুভূমি ব্যান্ডের সদস্য শহিদুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘ভালো কাজ চালিয়ে যাও। কেবিএমএফসির জন্য শুভকামনা রইল।’
রাকিব, শ্রাবণ, হাদি, মোরসালিন, সমুদ্র, মাহফুজ, ফাইম, আসিফ, সাইমন ও সাজিদুলসহ একটি বড় টিম এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত। তারা নিয়মিতভাবে কনটেন্ট, ভিডিও এবং প্রচারণার কাজ করে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে খুলনার ব্যান্ড সংগীতকে দেশজুড়ে আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরতে তারা ভূমিকা রাখছেন।
সব মিলিয়ে খুলনার এই উদ্যোগ এখন শুধু একটি অনলাইন কমিউনিটি নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে, যেখানে নতুন প্রজন্মের ব্যান্ড সংগীত এক ধরনের সংগঠিত প্রকাশের সুযোগ পাচ্ছে।