
অস্কারজয়ী হলিউড পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলান এবার উচ্ছ্বসিত প্রশংসায় ভাসালেন কিংবদন্তি ভারতীয় নির্মাতা সত্যজিৎ রায়কে। ‘পথের পাঁচালী’কে ‘অবিশ্বাস্য’ ও ‘মন জয় করা’ সিনেমা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, অপু ট্রিলজির বাকি দুই পর্ব দেখার জন্যও তিনি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া নোলানের নতুন চলচ্চিত্র ‘দ্য ওডিসি’ বিশ্বজুড়ে বক্স অফিসে আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যেই তিনি নিউইয়র্কের বিখ্যাত ‘ক্রাইটেরিয়ন ক্লোজেট’ পরিদর্শন করেন।
ক্রাইটেরিয়ন ক্লোজেট হলো নিউইয়র্কভিত্তিক স্বনামধন্য হোম-ভিডিও ডিস্ট্রিবিউশন প্রতিষ্ঠান দ্য ক্রাইটেরিয়ন কালেকশন-এর একটি বিশেষ কক্ষ। সেখানে ক্রাইটেরিয়ন কর্তৃক পুনরুদ্ধার (রিস্টোর) করা এক হাজারেরও বেশি ক্লাসিক ও আর্ট-হাউস চলচ্চিত্রের ডিভিডি এবং ব্লু-রে ডিস্ক সংরক্ষিত রয়েছে।
এই কক্ষে বিশ্বের খ্যাতিমান নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। তারা নিজেদের পছন্দের চলচ্চিত্র বেছে নেন এবং সেগুলো নিয়ে মতামত প্রকাশ করেন। সেই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি সেখানে আমন্ত্রিত হন ক্রিস্টোফার নোলান।
পরিদর্শনের সময় নোলান ডন সিগেলের ‘দ্য কিলারস’, জন কাসাভেটসের পাঁচটি চলচ্চিত্রের সেট, আল রেইনার্টের ‘ফর অল ম্যানকাইন্ড’, অরসন ওয়েলসের ‘মিস্টার আরকাডিন’ এবং ফ্রিটজ ল্যাংয়ের ‘দ্য টেস্টিমেন্ট অব ডক্টর ম্যাবুস’ বেছে নেন।
এরপর তার হাতে উঠে আসে সত্যজিৎ রায়ের অপু ট্রিলজির ডিভিডি সংগ্রহ। এ সময় সত্যজিৎ রায়ের কাজ সম্পর্কে নোলান বলেন, ‘অপু ট্রিলজির স্রষ্টা সত্যজিৎ রায় ভারতবর্ষের অন্যতম সেরা চলচ্চিত্র নির্মাতা। এই ট্রিলজির প্রথম সিনেমা ‘‘পথের পাঁচালী’’, যা এককথায় অবিশ্বাস্য একটি সিনেমা। এটি আমার মন জয় করে নিয়েছিল। আমি এখনো এই ট্রিলজির দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্ব দেখার সুযোগ পাইনি, তাই পুরো গল্পটি শেষ করার জন্য এটি সঙ্গে নিয়ে যেতে পেরে আমি সত্যিই খুব রোমাঞ্চ বোধ করছি।’
এ ছাড়া ক্রাইটেরিয়ন ক্লোজেট থেকে আরও বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র ও সংগ্রহ নির্বাচন করেন নোলান। এর মধ্যে রয়েছে মার্টিন স্করসেসির ‘স্করসেসি শর্টস’ ও ‘ওয়ার্ল্ড সিনেমা প্রজেক্ট নং ৩’, স্পাইক লির ‘ম্যালকম এক্স’, ডেভিড লিঞ্চের ‘লস্ট হাইওয়ে’, ‘কাৎসি ট্রিলজি’, রবার্ট অল্টম্যানের ‘দ্য প্লেয়ার’, রিচার্ড লিঙ্কলেটারের ‘বয়হুড’, কার্ল ফ্রাঙ্কলিনের ‘ওয়ান ফলস মুভ’, ক্যারল ব্যালার্ডের ‘দ্য ব্ল্যাক স্ট্যালিয়ন’ এবং অরসন ওয়েলসের ‘সিটিজেন কেইন’।