
হামে আক্রান্ত সাত মাস বয়সী শিশুপুত্র এখন আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। আর হাসপাতালের করিডোরে বসে অসহায়ের মতো ছেলের দিকে তাকিয়ে দিন পার করছেন প্রতিবন্ধী বাবা আসলাম। এক সপ্তাহেই চিকিৎসার খরচ মেটাতে ধার করতে হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা।
বুধবার (২০ মে) রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের হাম ওয়ার্ডের সামনে বসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের অসহায়তার কথা বলছিলেন গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া উপজেলার বাসিন্দা আসলাম।
তিনি জানান, ছোটবেলায় বাতজ্বরে আক্রান্ত হয়ে দুই পা অকেজো হয়ে যায় তার। এরপর থেকেই ভ্যান চালিয়ে কোনোভাবে স্ত্রী ও চার সন্তানকে নিয়ে সংসার চালিয়ে আসছিলেন। তবে সাত মাস বয়সী ছেলে তাজিম জন্মের পর থেকেই অসুস্থতায় ভুগছে।
আসলাম বলেন, ‘জন্মের পর থেইকা পোলাডা ঠিকমতো সুস্থ ছিল না। একটার পর একটা অসুখ লেগেই আছে। এখন আবার হাম হইছে। গত রোববার আইসিইউতে নিছে। আমি কী করুম বুঝতাছি না।’
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত সপ্তাহে জ্বর ও শরীরে র্যাশ দেখা দিলে প্রথমে তাজিমকে কোটালিপাড়া উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকের পরামর্শে রোববার (১৭ মে) ঢাকায় এনে শিশু হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে আইসিইউর ৯ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন।
চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন আসলাম। তিনি বলেন, ‘ওষুধ, পরীক্ষা আর ইনজেকশন মিলাইয়া প্রায় ৬০ হাজার টাকার মতো খরচ হইছে। এর মধ্যে ৫০ হাজার টাকা ধার করছি। আমি সামান্য ভ্যান চালাই, এই টাকা কীভাবে শোধ করুম জানি না।’
তিনি জানান, ছেলের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ‘নরমোগ্লোবিন’ নামের একটি ইনজেকশন দিতে হয়েছে, যার দাম প্রায় ১৪ হাজার টাকা। প্রথমে বাইরে থেকে কিনতে হলেও পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি ডোজের ব্যবস্থা করে দেয়।
আসলাম আরও বলেন, জন্মের পর থেকে মায়ের দুধ না পাওয়ায় শিশুটিকে বাইরের দুধ কিনে খাওয়াতে হয়েছে। এতে গত কয়েক মাসেই আরও বড় অঙ্কের ঋণের বোঝা তৈরি হয়েছে পরিবারের ওপর।
হাসপাতালের করিডোরে বসে থাকা এই বাবার একটাই আকুতি, তার সন্তান যেন সুস্থ হয়ে ফিরে আসে। তিনি বলেন, ‘সরকার যদি একটু সাহায্য করতো, তাহলে হয়তো বাঁচার একটা পথ পাইতাম।’
এদিকে দেশে হাম পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৪৮১ শিশু। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত হয়েছে ৮ হাজার ৬৭ জন এবং উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫৭ হাজার ৮৫৬ জন। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে।