
সম্প্রতি আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক পদ থেকে ডা. শেখ মহিউদ্দিন স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। তাঁর স্থলে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অধ্যাপক জামালুন্নেসাকে। পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন এই নিয়োগ কার্যকর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের পরিচালক-কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স তারিকুল ইসলাম মুকুলের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া শিশু মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ গভীরভাবে শোকাহত। ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ ওঠার পর সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তদারকি ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং চিকিৎসা প্রোটোকল পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এতে আরও জানানো হয়, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার কাজ চলছে। এর অংশ হিসেবে উন্নয়ন কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়েছে। রোগীদের জন্য অক্সিজেন চলাচল ও আলো-বাতাসের পরিবেশ উন্নত করতে তিনজন স্বতন্ত্র পরামর্শকের নেতৃত্বে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ চলছে। পাশাপাশি করপোরেট অফিসের ওপর থাকা একটি বেকারি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
নতুন দায়িত্ব পাওয়া অধ্যাপক জামালুন্নেসা দীর্ঘ ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকতা করেছেন। সম্প্রতি তিনি স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৮৮ সালে একই বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন।
ফাউন্ডেশনটি জানায়, ১৯৮০ সাল থেকে আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশন সমাজের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা শিক্ষা, সাধারণ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বর্তমানে এর অধীনে ৯টি হাসপাতাল, ৫টি মেডিকেল কলেজ, ১টি নার্সিং কলেজ, ৪টি নার্সিং ইনস্টিটিউট, ১টি ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি, একটি কলেজিয়েট স্কুল এবং বিভিন্ন ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু রয়েছে।
এছাড়া আদ-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মগবাজারে গত ২৯ বছরে প্রায় ১ কোটি ৫৭ লাখ ৭৩ হাজার ২৯১ জন রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই হাজার রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেন। এখানে ১ হাজার ৭৯০ জন চিকিৎসক, নার্স ও কর্মী কাজ করছেন, যাদের অধিকাংশই নারী।