
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একাধিক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় দেশটিতে নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম পলিটিকোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
পলিটিকোর ওই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে খামেনির কয়েকটি এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্ট পড়ে শোনানো হয়, যেখানে ইরানে চলমান বিক্ষোভে মৃত্যুর জন্য ট্রাম্পকে দায়ী করা হয়েছে। এসব বক্তব্যের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানে নতুন নেতৃত্ব খোঁজার সময় এসেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি দেশের নেতা হিসেবে তিনি যে অপরাধ করেছেন, তা হলো পুরো দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া এবং আগে কখনো না দেখা মাত্রায় সহিংসতা ব্যবহার করা। দেশ পরিচালনার দিকে মনোযোগ দেওয়ার বদলে তিনি ক্ষমতায় টিকে থাকতে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করছেন।’
এর আগে শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একাধিক বার্তায় খামেনি ইরানে সহিংসতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ট্রাম্পকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।’ একই সঙ্গে খামেনির বক্তব্য ছিল, ‘ইরানি জাতির ওপর প্রাণহানি, ক্ষয়ক্ষতি ও অপপ্রচারের জন্য আমরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে দোষী সাব্যস্ত করছি।’
আরেকটি পোস্টে খামেনি লেখেন, ‘এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছিল। এটি ছিল আরও বড় ষড়যন্ত্রের ভূমিকা। ইরানি জাতি যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজিত করেছে।’
কে ট্রাম্পকে এসব পোস্ট পড়ে শোনান, সে বিষয়ে পলিটিকো স্পষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই প্রতিক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বর্তমান শান্ত পরিস্থিতি কতটা ভঙ্গুর, সেটিই তুলে ধরছে।
এর আগের সপ্তাহে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে শত শত মানুষের মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানে হামলার বিষয়ে তাকে ‘খুব শক্তিশালী কয়েকটি বিকল্প’ দেওয়া হয়েছিল। গত মঙ্গলবার মৃত্যুর সংখ্যা হাজার ছাড়াতে পারে—এমন ইঙ্গিত পাওয়ার পর তিনি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘সহায়তা আসছে।’
সে সময় ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে লেখেন, ‘ইরানের দেশপ্রেমিকরা, প্রতিবাদ চালিয়ে যান। আপনাদের প্রতিষ্ঠানগুলো দখলে নিন। হত্যাকারী ও নির্যাতনকারীদের নাম সংরক্ষণ করুন। তাদের বড় মূল্য দিতে হবে। বিক্ষোভকারীদের নির্বিচার হত্যা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব বৈঠক বাতিল করেছি। সহায়তা আসছে।’
তবে শুক্রবার হঠাৎ করেই ট্রাম্পের বক্তব্যে পরিবর্তন দেখা যায়। কোনো প্রমাণ উপস্থাপন না করেই তিনি দাবি করেন, ইরানের নেতৃত্ব ৮০০ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছে এবং এজন্য তিনি তাদের ধন্যবাদ জানান।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, তারা ইরানে ৩ হাজার ৯০ জনের মৃত্যুর তথ্য যাচাই করেছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৮৮৫ জনই বিক্ষোভকারী। পাশাপাশি ২২ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানায় সংস্থাটি।
এই বিষয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: টাইম ম্যাগাজিন