
ভালোবাসার সম্পর্কের টানাপোড়েন শেষ পর্যন্ত রূপ নিল মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে। ভারতের উত্তর প্রদেশের কানপুরে পারিবারিক বিরোধের জেরে স্ত্রীকে নৃশংসভাবে হত্যার পর নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন ২২ বছর বয়সী শচীন নামে এক যুবক।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে কানপুরের মহারাজপুর থানায় হাজির হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন শচীন। দায়িত্বরত পুলিশ পরিদর্শকের কাছে তিনি স্বীকার করেন, স্ত্রী শ্বেতাকে গলা টিপে হত্যা করে মরদেহ কম্বলে মুড়িয়ে ঘরের ভেতর রেখে এসেছেন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পুলিশ অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী শ্বেতার মরদেহ উদ্ধার করে। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত উঠে এসেছে।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, শচীন ও শ্বেতা উত্তর প্রদেশের ফতেহপুর জেলার মোহনপুর গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের অমতে প্রেম করে আদালতে বিয়ে করার পর তারা বাড়ি ছাড়েন। প্রথমে কিছুদিন সুরাটে থাকার পর কানপুরে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন দম্পতি।
কানপুরে শচীন অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তবে সম্প্রতি স্ত্রীর চরিত্র নিয়ে তার মনে সন্দেহ তৈরি হয়। শ্বেতার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া টাকার উৎস নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই বিরোধ হতো। শ্বেতা ওই অর্থ দাদির কাছ থেকে পেয়েছেন বলে দাবি করলেও শচীন তা বিশ্বাস করতেন না।
শুক্রবার রাতে সন্দেহের সত্যতা যাচাই করতে শচীন স্ত্রীকে ফোন করে জানান, তিনি বন্ধুদের সঙ্গে পার্টিতে ব্যস্ত থাকবেন এবং রাতে বাড়ি ফিরবেন না। কিন্তু গভীর রাতে হঠাৎ বাসায় ফিরে তিনি শ্বেতাকে স্থানীয় দুই তরুণের সঙ্গে কথা বলতে দেখেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা শুরু হলে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সবাইকে থানায় নিয়ে যায়। পরে দম্পতিকে বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার পরামর্শ দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তবে বাড়ি ফেরার পর উত্তেজনা আরও বাড়ে এবং একপর্যায়ে শচীন রাগের মাথায় শ্বেতাকে গলা টিপে হত্যা করেন।
হত্যার পর অপরাধবোধে শচীন কয়েক ঘণ্টা শহরজুড়ে ঘুরে বেড়ান। পালানোর কথা ভাবলেও শেষ পর্যন্ত তিনি থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেন। পুলিশকে তিনি জানান, একে অপরের জন্যই তারা ঘর ছেড়েছিলেন, আর এখন শ্বেতা না থাকায় তার আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।
পুলিশ শ্বেতার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। ভালোবাসার টানে ঘর ছাড়া এই দম্পতির করুণ পরিণতি স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোকের আবহ সৃষ্টি করেছে।
সূত্র: এনডিটিভি।