
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এক জঙ্গল অঞ্চল দখলকে কেন্দ্র করে কলম্বিয়ায় বামপন্থি গেরিলা সংগঠন ফার্কের দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী উপদলের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির সামরিক বাহিনী এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সামরিক সূত্র জানিয়েছে, কোকেন উৎপাদন ও পাচারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই মূলত এই প্রাণঘাতী সংঘাতের সূত্রপাত হয়।
ঘটনাটি ঘটে রাজধানী বোগোতা থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে গুয়াভিয়ারে বিভাগের এল রেতোর্নো নামের একটি প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকায়। রোববার (১৮ জানুয়ারি) সংঘটিত এই সহিংসতা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশটিতে সংঘটিত সবচেয়ে বড় গেরিলা সংঘর্ষগুলোর একটি বলে মনে করা হচ্ছে।
সামরিক কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া উভয় উপদলই একসময় ‘সেন্ট্রাল জেনারেল স্টাফ’-এর অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে তারা পৃথক হয়ে যায়। একটি উপদলের নেতৃত্বে রয়েছেন আইভনা মরদিস্কো নামে পরিচিত নেস্তর গ্রেগরিও ভেরা, আর অপর উপদলটি পরিচালনা করছেন কালার্কা করদোবা ছদ্মনামের আলেকজান্দার দিয়াস মেন্দোসা। নিহতদের সবাই আইভনা মরদিস্কোর অনুসারী বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমানে কালার্কা করদোবার নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীটি কলম্বিয়ার প্রথম বামপন্থি প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশ নিচ্ছে। বিপরীতে, আইভনা মরদিস্কোর নেতৃত্বাধীন উপদলটি সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক অস্ত্রবিরতি বাতিল হওয়ার পর নতুন করে সশস্ত্র তৎপরতা শুরু করেছে। উল্লেখযোগ্য হলো, এই দুটি উপদলই ২০১৬ সালে সরকারের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছিল। ওই চুক্তির আওতায় ফার্কের মূল সংগঠনের প্রায় ১৩ হাজার সদস্য অস্ত্র সমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যান।
ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলমান কলম্বিয়ার সশস্ত্র সংঘাত মূলত মাদক পাচার ও অবৈধ খনির অর্থের ওপর নির্ভরশীল। এই দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘাতে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষ নিহত হয়েছে এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর ঘোষিত ‘পূর্ণাঙ্গ শান্তি’ উদ্যোগ গেরিলাদের অভ্যন্তরীণ এই সহিংস সংঘর্ষের কারণে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সূত্র: রয়টার্স