
স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলে দুটি উচ্চগতির ট্রেনের মুখোমুখি ভয়াবহ সংঘর্ষে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯ জনে। এই দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ১৫২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটিভিই। পুলিশি সূত্রের বরাতে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) এই তথ্য জানানো হয়।
স্থানীয় সময় রোববার সন্ধ্যা পৌনে ৮টার দিকে রাজধানী মাদ্রিদ থেকে প্রায় ৩৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে কর্ডোবা প্রদেশের আদামুজ এলাকার কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে। একটি উচ্চগতির ট্রেনের লাইনচ্যুত বগির সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি ট্রেনের সজোরে সংঘর্ষে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে স্পেনের সবচেয়ে বড় ট্রেন দুর্ঘটনাগুলোর একটি এটি।
দুর্ঘটনার পর মাদ্রিদ ও দক্ষিণ আন্দালুসিয়া অঞ্চলের মধ্যে চলাচলকারী অন্তত ২০০টি ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। আরটিভিই জানায়, এই রুটের আওতায় থাকা কর্ডোবা, সেভিল ও গ্রানাডাসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর সঙ্গে রেল যোগাযোগ সোমবার সারাদিন কার্যত বন্ধ ছিল।
এই দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ তার সোমবারের সব পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করেছেন। দুর্ঘটনাকবলিত দুটি ট্রেনে মোট প্রায় ৪০০ যাত্রী ছিলেন। তাদের অধিকাংশই সপ্তাহান্তের ছুটি শেষে মাদ্রিদে ফিরছিলেন অথবা মাদ্রিদ থেকে অন্য গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। জানুয়ারি মাসে পর্যটনের মৌসুম না থাকায় ট্রেনগুলোতে কতজন বিদেশি পর্যটক ছিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ফ্লাডলাইটের তীব্র আলোয় উদ্ধারকর্মীরা দুমড়েমুচড়ে যাওয়া বগির ভেতর থেকে যাত্রীদের বের করে আনছেন। অনেক যাত্রী ভাঙা জানালা দিয়ে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন এবং গুরুতর আহতদের স্ট্রেচারে করে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়।
স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে মাদ্রিদের অ্যাটোচা স্টেশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আপাতত উদ্ধার তৎপরতা ও আহতদের চিকিৎসাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা যাচাই করে দেখছে। একই সঙ্গে পুলিশ ও রেল কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। ট্রেনের গতি কিংবা সিগন্যালিং ব্যবস্থায় কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উচ্চগতির ট্রেনের এই ভয়াবহ সংঘর্ষ স্পেনজুড়ে শোকের আবহ তৈরি করেছে এবং রেলপথে যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স