
শীতের তীব্রতায় কাঁপতে থাকা ইউক্রেনে রাশিয়ার রাতভর বিমান হামলায় বড় বিপর্যয় নেমে এসেছে রাজধানী কিয়েভে। হামলার পর শহরের প্রায় অর্ধেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে মঙ্গলবার হাজারো আবাসিক ভবনে তাপ ও পানির সেবা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ওই সময় তাপমাত্রা নেমে আসে মাইনাস ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
দেশজুড়ে জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো এই বোমা হামলায় কিয়েভের উপকণ্ঠে ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হন।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিগা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘যুদ্ধাপরাধী পুতিন নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের বিরুদ্ধে গণহত্যামূলক যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে।’
তিনি আরও জানান, রুশ বাহিনী অন্তত সাতটি অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হেনেছে। এ পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের মিত্রদের প্রতি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের প্রসঙ্গ টেনে সিবিগা বলেন, ‘পুতিনের বর্বর হামলা আজ সকালে দাভোসে সমবেত বিশ্বনেতাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা।’
তিনি বলেন, ‘ইউক্রেনীয় জনগণের জন্য সহযোগিতা জরুরি। ইউক্রেনের স্থায়ী শান্তি স্থাপন ছাড়া ইউরোপে কোনো শান্তি থাকবে না’
এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, রুশ বাহিনী ‘উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র’ এবং ‘৩০০-এর বেশি আক্রমণাত্মক ড্রোন’ নিক্ষেপ করেছে।
ইউক্রেনের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়ানা বেতসা বলেন, ‘কিয়েভের প্রায় অর্ধেক এলাকা এখন ব্ল্যাকআউটে।’