
ইরানের সঙ্গে তীব্র সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই নজিরবিহীন প্রস্তুতি নিয়েছে ইসরায়েল। সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় দেশজুড়ে স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং বড় হাসপাতালগুলোর কার্যক্রম দ্রুত ভূগর্ভস্থ সুরক্ষিত ইউনিটে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জরুরি নির্দেশনা দিয়ে দেশের সব প্রধান হাসপাতালকে অতি দ্রুত আন্ডারগ্রাউন্ড ফেসিলিটিতে চিকিৎসা কার্যক্রম স্থানান্তরের আদেশ দেয়। একই সঙ্গে যেসব রোগীর হাসপাতালে থাকার জরুরি প্রয়োজন নেই, তাদের দ্রুত ছাড়পত্র দিয়ে শয্যা খালি করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
তেল আবিবের খ্যাতনামা সুরাসকি মেডিকেল সেন্টার ইতোমধ্যে তাদের ভূগর্ভস্থ জরুরি হাসপাতাল পুরোপুরি চালু করেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংবেদনশীল বিভাগগুলো নিরাপদ কক্ষে স্থানান্তর সম্পন্ন হয়েছে এবং রোগীদের সুরক্ষিত স্থানে নেওয়ার কাজ চলছে।
এদিকে রামাত গনের শেবা মেডিকেল সেন্টার-ও গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটগুলো মাটির নিচে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি শেষ করেছে। চিকিৎসক ও নার্সরা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে জরুরি সেবা দিতে প্রস্তুত রয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে।
হাইফা অঞ্চলের রামবাম হাসপাতাল তাদের বিশাল ভূগর্ভস্থ পার্কিং এলাকা খালি করে সেটিকে অস্থায়ী হাসপাতালে রূপান্তর করেছে। কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনে হাসপাতালে না আসার আহ্বান জানিয়েছে।
পাশাপাশি দেশের প্রধান জরুরি সেবা সংস্থা মাগেন ডেভিড অ্যাডোম নিয়মিত কার্যক্রম সীমিত করে সামরিক ধাঁচের জরুরি ব্যবস্থায় চলে গেছে। সংস্থাটি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে সম্ভাব্য হতাহতের চিকিৎসা প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, সম্ভাব্য ইরানি পাল্টা হামলা থেকে নাগরিকদের সুরক্ষিত রাখতেই এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা কেন্দ্রগুলো লক্ষ্যবস্তু হলেও যাতে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত না হয়, সেটিই এই পরিকল্পনার প্রধান উদ্দেশ্য।
ভূগর্ভস্থ হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত ওষুধ, অক্সিজেন ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতেও সেবা অব্যাহত রাখা যায়। দেশের এই ব্যাপক চিকিৎসা প্রস্তুতি সাধারণ মানুষের মধ্যে স্পষ্ট যুদ্ধাবস্থার পরিবেশ তৈরি করেছে।