
যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগে বড় পরিবর্তন আনলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিভাগের প্রধান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টি নোয়েমকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়ে তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে মার্কওয়েন মুলেনের নাম ঘোষণা করেছেন তিনি।
মার্কিন সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরটি অভিবাসন নীতির বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসনবিরোধী অভিযানে এটি মূল দায়িত্ব পালনকারী সংস্থা হিসেবে পরিচিত।
বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান সিনেটর মার্কওয়েন মুলেন আগামী ৩১ মার্চ থেকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। একইসঙ্গে তিনি জানান, ৫৪ বছর বয়সী ক্রিস্টি নোয়েমকে নতুন একটি নিরাপত্তা উদ্যোগে তার বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। এই উদ্যোগের নাম রাখা হয়েছে ‘দ্য শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস’।
নোয়েমের কাজের প্রশংসাও করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, নোয়েম ‘আমাদের জন্য ভালো কাজ করেছেন এবং বহু গুরুত্বপূর্ণ ও অসাধারণ ফলাফল এনে দিয়েছেন, বিশেষ করে সীমান্ত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে’।
অন্যদিকে মুলেনকে ‘মাগা যোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, তিনি ‘অসাধারণ একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি)’ হবেন।
তবে মুলেনের এই নিয়োগ কার্যকর হতে হলে মার্কিন সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। বর্তমানে সিনেটে রিপাবলিকান পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, ফলে তার অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশ জোরালো বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়ে মুলেনের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের সীমান্ত নিরাপদ রাখতে মার্কওয়েন নিরলসভাবে কাজ করবেন, অভিবাসনসংক্রান্ত অপরাধ, খুনি ও অন্যান্য অপরাধীদের অবৈধভাবে দেশে ঢোকা ঠেকাতে, অবৈধ মাদকের অভিশাপ শেষ করতে এবং আমেরিকাকে আবার নিরাপদ করতেও তিনি কাজ করবেন।’
এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে সিনেটের এক শুনানিতে নোয়েমের দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন। ওই শুনানিতে নোয়েম বলেন, প্রেসিডেন্ট ২২ কোটি ডলারের একটি ডিএইচএস বিজ্ঞাপন প্রচারণা অনুমোদন করেছিলেন এবং সেই বিজ্ঞাপনে তাকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছিল।