
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ড্রোন হামলা রুখতে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের সহযোগিতা চেয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জেলেনস্কি জানান, ওয়াশিংটনের অনুরোধ পাওয়ার পর তিনি ইউক্রেনের বিশেষজ্ঞদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে প্রস্তুত থাকতে।
সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানিয়েছে, রাশিয়ার চার বছরের সামরিক অভিযানের সময় ইউক্রেন স্বল্প ব্যয় ও কার্যকরী ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। আকাশে আঘাতকারী ড্রোনগুলোর পথ রোধে সক্ষম এই ইন্টারসেপ্টরগুলোকে কিয়েভ বিশ্বের সেরা প্রযুক্তিগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে মূল্যায়ন করে।
গত মঙ্গলবার জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর কাছে একটি প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “তাদের কাছে থাকা কিছু আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের বিনিময়ে ইউক্রেন এই ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তি সরবরাহ করতে পারে, যা ইরানের ড্রোন হামলা মোকাবিলায় আরও কার্যকর হবে।”
জেলেনস্কি বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে ‘শাহেদ’ ড্রোনের বিরুদ্ধে সুরক্ষায় নির্দিষ্ট সহায়তার জন্য আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অনুরোধ পেয়েছি।’ তিনি যে ‘শাহেদ’ ড্রোনের কথা উল্লেখ করেছেন, তা ইরানের নকশায় তৈরি এবং রাশিয়াও ইউক্রেনের বিরুদ্ধে এগুলো ব্যবহার করছে।
রাশিয়ার ড্রোন হামলার কারণে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর প্রায় প্রতিদিনই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। হামলা চালানো হচ্ছে আবাসিক এলাকা, বেসামরিক অবকাঠামো এবং জ্বালানি স্থাপনার ওপরও।
জেলেনস্কি বলেন, “আমি প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ এবং ইউক্রেনীয় বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছি, যাতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।”
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই সহায়তা চাওয়ার পেছনেই রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, জেলেনস্কি ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তি প্রচেষ্টায় বাধা দিচ্ছেন। পলিটিকোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘জেলেনস্কিকে এখন সক্রিয় হতে হবে এবং একটি সমঝোতা করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটা অকল্পনীয় যে তিনি বাধা হয়ে দাঁড়াবেন। আপনার হাতে তেমন কোনও শক্তি নেই। এখন তার হাতে আরও কম শক্তি আছে।’
ট্রাম্প ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার প্রথম দিনেই ইউক্রেন যুদ্ধে অবিলম্বে শান্তি আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, রাশিয়ার হামলা চলার কারণে সেই লক্ষ্য পূরণ কঠিন হয়ে পড়েছে।