
ইরানের উচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্ব আলী লারিজানি এবং বাসিজ প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলামরেজা সোলেইমানি হত্যার পরও দেশের রাজনৈতিক কাঠামো অটুট থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার সঙ্গে বুধবার (১৮ মার্চ) বিশেষ সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, "ইরান কোনো একক ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়। এটি একটি সুপ্রতিষ্ঠিত শক্তিশালী রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে।"
সাক্ষাৎকারে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এখনো বুঝতে পারেনি যে ইরানের সরকার বা ব্যবস্থা কোনো ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে থমকে যায় না। আমাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী। অবশ্যই প্রতিটি ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু কারো শাহাদাত এই কাঠামোকে অচল করতে পারবে না।"
আরাগচি আরও উল্লেখ করেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে হারানো সত্ত্বেও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার কার্যক্রম এক মুহূর্তের জন্যও থমকে থাকেনি এবং দ্রুত বিকল্প নেতৃত্ব নিশ্চিত হয়েছে।
এর আগে সোমবার (১৬ মার্চ) রাতে এক হামলায় ৬৭ বছর বয়সী আলী লারিজানি নিহত হন। তিনি ছিলেন নিহত আলী খামেনি ও বর্তমান উত্তরসূরি মোজতবা খামেনির ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত পরামর্শদাতা। যুদ্ধ শুরুর ১৯ দিনে তিনি সর্বোচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নিহত হয়েছেন।
পরবর্তী দিন মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে, দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী ‘বাসিজ’-এর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলামরেজা সোলেইমানিও ‘আমেরিকান-জায়নবাদী’ শত্রুর হামলায় শহীদ হয়েছেন।
সোলেইমানি ছয় বছর ধরে বাসিজ বাহিনীর কমান্ডার ছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরোধ কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
আল-জাজিরার জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক বিশ্লেষক মারওয়ান বিশারা এই হত্যাকাণ্ডগুলোকে ‘গ্যাংস্টারসুলভ সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, "যুদ্ধে রাজনৈতিক নেতাদের টার্গেট করা কোনো স্বাভাবিক নিয়ম নয়। ইসরায়েল যা করছে তা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।"
বিশারা আরও মনে করেন, যদিও একজনের মৃত্যু ইরান ভেঙে ফেলবে না, তবে ধারাবাহিক লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড দীর্ঘমেয়াদে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
সাক্ষাৎকারে আরাগচি উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া সংঘাতকে ইরানের কাম্য না বলে অভিহিত করেন এবং যুদ্ধের মানবিক ও আর্থিক ক্ষতির জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, "আমি আবারও বলছি; এই যুদ্ধ আমাদের পছন্দ নয়, আমরা এটি শুরু করিনি। যুক্তরাষ্ট্র এটি শুরু করেছে এবং এর প্রতিটি পরিণতির জন্য তাদেরই জবাবদিহি করতে হবে।"