মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা সরাসরি প্রভাব ফেলেছে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় আয়োজনে। জ্বালানি সংকট ও ব্যয় বৃদ্ধির চাপ সামলাতে গিয়ে এবার দেশের জাতীয় দিবস উদযাপন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামাবাদ।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, ইরানে আগ্রাসনকে কেন্দ্র করে যে সংঘাত শুরু হয়েছে এবং তার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তাতে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে ২৩ মার্চের জাতীয় দিবসের আনুষ্ঠানিক আয়োজন বাতিল করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ১৭ মার্চ জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৪৮ সালের ২৩ মার্চ প্রথম সংবিধান গ্রহণ করে পাকিস্তান। সেই ঐতিহাসিক দিনটিকে স্মরণ করে প্রতিবছর জাতীয় দিবস পালন করা হয়। সাধারণত রাজধানী ইসলামাবাদে এ উপলক্ষে সামরিক কুচকাওয়াজসহ জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন হয়ে থাকে, তবে এ বছর সেই চিত্র দেখা যাবে না।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ইরানে যুদ্ধ এবং তার জেরে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেলের সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে পড়ায় ব্যয় সংকোচন নীতির অংশ হিসেবে চলতি বছর জাতীয় দিবস উদযাপন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এবারের জাতীয় দিবস উদযাপন কেবল পতাকা উত্তোলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।’
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার ফলে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এতে অন্যান্য দেশের মতো পাকিস্তানও বিপাকে পড়েছে, কারণ জ্বালানি তেলের জন্য দেশটি মূলত মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। প্রণালিতে বাধার কারণে নতুন তেলের চালান আসতে না পারায় সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে।
এই সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যেই ভোক্তা পর্যায়ে পড়েছে। জ্বালানি তেলের সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে যাওয়ায় দেশটিকে প্রায় ২০ শতাংশ দাম বাড়াতে হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।