
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ন্যাটোর প্রত্যাশিত সমর্থন না পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রকে ন্যাটো থেকে বের করে নেওয়ার বিষয়টি তিনি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছেন। একই সঙ্গে তিনি জোটটিকে “কাগুজে বাঘ” বলে আখ্যা দেন এবং বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সদস্যপদ রাখা এখন পুনর্বিবেচনার পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। তিনি অভিযোগ করেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে মিত্রদের যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বানে সাড়া দেয়নি ন্যাটো সদস্যরা। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা ইরানের পদক্ষেপে কয়েক সপ্তাহ ধরে কার্যত বন্ধ রয়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং মন্দার আশঙ্কা বাড়ছে।
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সবসময় মিত্রদের পাশে থেকেছে, বিশেষ করে ইউক্রেন ইস্যুতে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ায়নি। তিনি আরও দাবি করেন, ভ্লাদিমির পুতিন ন্যাটোর দুর্বলতা সম্পর্কে অবগত।
যুক্তরাজ্যকে আলাদা করে সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, দেশটির নৌবাহিনী দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং তারা এই যুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম নয়। তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার-এর প্রতিরক্ষা ব্যয় নীতির সমালোচনা করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়াকে দায়ী করেন।
তবে ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে কিয়ার স্টারমার ন্যাটোর প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, এটি বিশ্বের সবচেয়ে কার্যকর সামরিক জোট। তিনি স্পষ্ট করেন, ইরান যুদ্ধ ব্রিটেনের যুদ্ধ নয় এবং এতে জড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ন্যাটোকে “একপাক্ষিক সম্পর্ক” বলে সমালোচনা করে জানান, মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় ওয়াশিংটন অসন্তুষ্ট। তিনি ইঙ্গিত দেন, যুদ্ধ শেষ হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ন্যাটোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন করতে হতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে ন্যাটোর কাঠামো পরিবর্তন নিয়েও আলোচনা চলছে। প্রস্তাবিত “পে-টু-প্লে” মডেলে প্রতিরক্ষা ব্যয়ের নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ না করা দেশগুলোর সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ সীমিত করা হতে পারে। পাশাপাশি জার্মানি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
উল্লেখ্য, ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫ অনুযায়ী কোনো সদস্য রাষ্ট্র আক্রান্ত হলে সেটিকে সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই ধারা ইতিহাসে একবারই প্রয়োগ করা হয়েছে— সেপ্টেম্বর ১১ হামলা-এর পর। তবে বর্তমান ইরান যুদ্ধ এই ধারার আওতায় পড়ে না, কারণ এটি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের মাধ্যমে শুরু হয়েছে।