
বাগদাদে প্রকাশ্যে অপহৃত হওয়ার পর অবশেষে মুক্তি পেলেন মার্কিন নারী সাংবাদিক শেলি কিটলসন—এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে রুবিও জানান, ইরান-সমর্থিত ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠী কাতাইব হিজবুল্লাহর হাতে আটক থাকা কিটলসনকে মুক্ত করা হয়েছে। তার মুক্তির প্রক্রিয়ায় পেন্টাগন, এফবিআই এবং ইরাকের সর্বোচ্চ বিচারিক পরিষদের কর্মকর্তাসহ একাধিক পক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
গত মার্চের শেষ দিকে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের নিকটবর্তী এলাকা থেকে দিবালোকে তাকে অপহরণ করা হয়।
রুবিও বলেন, ‘এই মার্কিন নাগরিক মুক্ত হওয়ায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি এবং তাকে নিরাপদে ইরাক ত্যাগে সহায়তা করছি।’
এর আগে অপহরণের দায় স্বীকার করে কাতাইব হিজবুল্লাহ জানিয়েছিল, তারা ওই মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দিতে প্রস্তুত, তবে শর্ত হিসেবে তাকে দ্রুত ইরাক ত্যাগ করতে হবে।
ইরাকের এক সরকারি কর্মকর্তা জানান, দেশটির সরকার এবং প্রভাবশালী কয়েকজন শিয়া নেতার সক্রিয় প্রচেষ্টা ও চাপ প্রয়োগের ফলেই কিটলসনের মুক্তি নিশ্চিত হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-মনিটর জানায়, কিটলসন রোমভিত্তিক একজন মার্কিন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক, যিনি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাত নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছেন এবং একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে লিখেছেন।
এদিকে মঙ্গলবার কাতাইব হিজবুল্লাহ-ঘনিষ্ঠ একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিটলসনকে দেখানো হয়েছে বলে দাবি করে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়।
তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। ভিডিওটি যদি প্রকৃত হয়, তবে অপহরণের পর এটিই কিটলসনের প্রথম দৃশ্যমান উপস্থিতি হিসেবে বিবেচিত হবে।
ভিডিওতে দেখা যায়, কিটলসনের মতো দেখতে এক নারী সাধারণ ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে ইংরেজিতে সরাসরি ক্যামেরার উদ্দেশে কথা বলছেন। তবে ভিডিওটি কোথায় এবং কখন ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৩ সালের মার্চে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসরায়েলি-রুশ স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী এলিজাবেথ সুরকভ গবেষণার কাজে ইরাকে গিয়ে কাতাইব হিজবুল্লাহর হাতে অপহৃত হন। পরে ২০২৫ সালে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
সূত্র: রয়টার্স