
ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘অনুপ্রবেশ’ ইস্যুতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বক্তব্যকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি জানতে চান—দিল্লিতে থাকা হাসিনা আসলে কোন পরিচয়ে আছেন, তিনি অনুপ্রবেশকারী নাকি শরণার্থী?
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) কলকাতায় বিজেপির নির্বাচনী ইশতেহার ‘সংকল্পপত্র’ প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তৃণমূল ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই প্রশ্ন তোলেন অভিষেক। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনার আইনি অবস্থান নিয়ে কেন্দ্রের নীরবতাকে বড় রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে সামনে আনেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে অমিত শাহের অনুপ্রবেশবিরোধী অবস্থানের কড়া সমালোচনা করে অভিষেক বলেন, ‘বিজেপি সবসময় অনুপ্রবেশ নিয়ে বড় কথা বলে। কিন্তু দিল্লিতে শেখ হাসিনা দেড় বছর ধরে কী করছেন? ওনার স্ট্যাটাস কী? তিনি কি অনুপ্রবেশকারী নাকি শরণার্থী? মোদী সরকার কেন তাঁকে দিল্লিতে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে?’ তিনি আরও প্রশ্ন ছুড়ে দেন, ‘শেখ হাসিনার স্ট্যাটাস কী, অমিত শাহ কি তার জবাব দিতে পারবেন?’
বিজেপির বিরুদ্ধে বাঙালিদের লক্ষ্য করে রাজনীতি করার অভিযোগ তুলে তিনি আসামের এনআরসি প্রসঙ্গ টানেন। তার ভাষায়, ১৯ লাখ মানুষের মধ্যে ১২ লাখ হিন্দু বাঙালির নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল এবং তাদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। পশ্চিমবঙ্গেও ভোটার তালিকা হালনাগাদের নামে প্রায় ৯০ লাখ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যার ৬৩ শতাংশই হিন্দু বাঙালি বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে বাংলা ভাষায় কথা বললে বা নিজের পছন্দের খাবার খেলেও মানুষকে হেনস্তা করা হচ্ছে।’
গত বিধানসভা নির্বাচনে ব্যবহৃত ‘সোনার বাংলা’ স্লোগান এবারের ইশতেহারে না থাকায় বিদ্রূপ করে অভিষেক বলেন, ‘এবার আর সোনার বাংলা কথাটা শুনলাম না। বিজেপি কি ধরে নিয়েছে যে বাংলা ইতিমধ্যে সোনার বাংলা হয়ে গেছে? আসলে ইস্তাহারে এই শব্দের অনুপস্থিতি গেরুয়া শিবিরের আত্মবিশ্বাসের অভাবকেই ফুটিয়ে তুলছে।’
অমিত শাহের বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, বিজেপি পরোক্ষভাবে স্বীকার করছে যে তারা ক্ষমতায় এলে বাংলা পরিচালিত হবে দিল্লি ও গুজরাট থেকে। তবে বাংলার মানুষ তাদের অধিকার অন্যের হাতে তুলে দেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানকে ‘প্রহসন’ আখ্যা দিয়ে অভিষেক বলেন, কেন্দ্রীয় সংস্থার তালিকায় থাকা দুর্নীতির অভিযোগভুক্ত ব্যক্তিরা বিজেপিতে যোগ দিলেই ‘সাধু’ হয়ে যাচ্ছেন।
জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতেও কেন্দ্রকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনেই থাকা দিল্লিতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। এছাড়া রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি, একে ‘অন্ধের মতো প্রতিশ্রুতি’ বলে উল্লেখ করে জানান, রাজ্য সরকার ইতোমধ্যে বাজেটে এ বিষয়ে ঘোষণা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। বর্তমানে দিল্লিতে তার অবস্থান ও আইনি পরিচয় নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের নীরবতাকেই রাজনৈতিকভাবে সামনে এনেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।