
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পরও ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্রিয় রয়েছেন—এমন তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খামেনির ঘনিষ্ঠ তিনজন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, হামলায় তার মুখমণ্ডল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একটি বা উভয় পা গুরুতরভাবে জখম হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্র জানান, ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন থাকলেও ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছেন এবং মানসিকভাবে তিনি সুস্থ ও সচেতন আছেন।
আরও দুইটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি অডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নিচ্ছেন। এসব সিদ্ধান্তের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত।
এদিকে শনিবার ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে খামেনির শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তিনি কতটা সক্রিয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
মোজতবার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তার শারীরিক অবস্থার এটাই সবচেয়ে বিস্তারিত বিবরণ। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, এসব তথ্য তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আকস্মিক হামলা চালায় ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনী। সেই হামলায় তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। ওই ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান তার ছেলে মোজতবা খামেনি।
পরবর্তীতে ৮ মার্চ তিনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি প্রকাশ্যে আসেননি; তার কোনো ভিডিও, অডিও বা ছবি প্রকাশ করা হয়নি।
রয়টার্স জানায়, ২৮ ফেব্রুয়ারির প্রথম দফার হামলাতেই তিনি আহত হন, যদিও এ বিষয়ে ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
গত ১৩ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন এবং সম্ভবত তিনি পঙ্গুত্বের শিকার হয়েছেন।
এছাড়া মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নের সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, ধারণা করা হচ্ছে তিনি একটি পা হারিয়েছেন। তবে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ।
সূত্র: রয়টার্স