
ইউক্রেনজুড়ে বুধবার রাতে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এসব হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৯০ জন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী কিয়েভে নিহত চারজনের মধ্যে ১২ বছর বয়সী এক কিশোরও রয়েছে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর দিনিপ্রোতে নিহত হয়েছেন তিনজন।
অন্যদিকে সীমান্তের ওপারে রাশিয়ার ক্রাসনোদার ক্রাই অঞ্চলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ৫ ও ১৪ বছর বয়সী দুই শিশু নিহত হয়েছে বলে টেলিগ্রামে জানিয়েছেন ওই অঞ্চলের গভর্নর ভেনিয়ামিন কনড্রাটিয়েভ।
গত সপ্তাহান্তে অর্থোডক্স ইস্টার উপলক্ষে দুই পক্ষের স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতির পর এ হামলাগুলো চালানো হলো। তবে ওই যুদ্ধবিরতি চলাকালেও উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে শত শতবার তা লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, রাজধানীতে প্রাণহানির পাশাপাশি উদ্ধারকারীরা পদিলস্কি জেলায় ধসে পড়া ১৬ তলা একটি আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে এক মা ও শিশুকে জীবিত উদ্ধার করেছেন।
রাজধানীর উত্তরাঞ্চলে বারবার শেল হামলায় আহতদের মধ্যে চারজন জরুরি চিকিৎসাকর্মীও রয়েছেন।
দিনিপ্রো অঞ্চলের প্রশাসনিক প্রধান ওলেক্সান্ডার গানঝা জানান, সেখানে হামলায় তিনজন নিহত ও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে বিভিন্ন ভবনে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে।
দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী ওডেসায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় আটজন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সামরিক প্রশাসনের প্রধান সের্হি লিসাক জানিয়েছেন।
খারকিভে ড্রোন হামলায় ৭৭ বছর বয়সী এক নারী ও ৬৬ বছর বয়সী এক পুরুষ আহত হয়েছেন।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিকা বলেছেন, এ ধরনের হামলাকে স্বাভাবিকভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। এগুলো যুদ্ধাপরাধ এবং অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।
তিনি রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো অথবা ইউক্রেনকে সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে অন্যান্য দেশগুলোকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
ইউক্রেন যুদ্ধ এখন পঞ্চম বছরে গড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতায় একাধিক দফা শান্তি আলোচনা হলেও তা এখন স্থবির হয়ে পড়েছে।
ইউক্রেন পূর্ণাঙ্গ ও স্থিতিশীল যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়ে আসছে। তবে মস্কো আগে শান্তি চুক্তির বিষয়ে জোর দিচ্ছে। কিয়েভের অভিযোগ, রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধে আন্তরিক নয়।