
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করলে ইরানের পতাকাবাহী যেকোনো জাহাজ কিংবা তেহরানকে ‘সামগ্রী সহায়তা’ দেওয়া কোনো নৌযানকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালানো হতে পারে।
এই কঠোর বার্তা দিয়েছেন মার্কিন জেনারেল ড্যান কেইন। তিনি বলেন, অভিযানের আওতায় তথাকথিত ‘ডার্ক ফ্লিট’—অর্থাৎ পরিচয় গোপন করে চলাচলকারী এবং ইরানি তেল পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহভাজন জাহাজও থাকবে।
জেনারেল কেইন জানান, এ মিশনে ১০ হাজারের বেশি নাবিক, মেরিন ও বিমানসেনা অংশ নিচ্ছে। পাশাপাশি এক ডজনের বেশি যুদ্ধজাহাজ ও অসংখ্য সামরিক বিমান প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি বলেন, পুরো অভিযানটি বড় ধরনের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।
সম্প্রতি পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত আলোচনার ব্যর্থতার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করেন। সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেল ৩টা থেকে তা কার্যকর হয়েছে বলে জানানো হয়।
ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে, এখন পর্যন্ত কোনো জাহাজ তাদের প্রতিরক্ষা বলয় অতিক্রম করতে পারেনি।
তবে এই অবরোধের সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি এবং কীভাবে তা বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে এখনো পরিষ্কার ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা একটি নতুন নৌপথ ‘স্থাপনের প্রক্রিয়া’ শুরু করছে, যার উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা।
জেনারেল কেইন বলেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র খুব অল্প সময়ের নোটিশে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করতে সক্ষম।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ‘প্রস্তুত ও সশস্ত্র’ অবস্থায় রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা বাড়ানো হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
জেনারেল কেইনের দাবি, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামের মার্কিন সামরিক পদক্ষেপই বর্তমান যুদ্ধবিরতির পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
সূত্র: স্কাই নিউজ