
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনা থামাতে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও সমাধানের পথ এখনো স্পষ্ট হচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক কর্মসূচি বা সামরিক ইস্যুর চেয়েও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থনৈতিক স্বার্থ ও নিষেধাজ্ঞা ঘিরে বিরোধ।
কূটনৈতিক সূত্র ও মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক একাধিক বিশ্লেষকের ভাষ্য অনুযায়ী, তেহরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে অনাগ্রহী ওয়াশিংটন। আর এই অবস্থানই দুই পক্ষের সম্ভাব্য সমঝোতাকে জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের কঠোর অর্থনৈতিক নীতির কারণে ইরানকে কোনো আর্থিক সুবিধা দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও স্পর্শকাতর বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির সময় ইরানকে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার সমালোচনা করে আসছিলেন ট্রাম্প। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে তেহরানকে অর্থনৈতিক ছাড় দিলে তা তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে পড়তে পারে। এই কারণে যুদ্ধ বা উত্তেজনা কমানোর আলোচনা এগোলেও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রশ্নে অচলাবস্থা তৈরি হচ্ছে।
এদিকে যুদ্ধ ও হামলার প্রভাবে ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের হিসাব অনুযায়ী, সাম্প্রতিক হামলা ও অস্থিরতায় দেশটির শত শত বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। যদিও বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম বাড়ায় কিছুটা সুবিধা পেয়েছে তেহরান, তবু অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে তাদের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ ও হিমায়িত সম্পদ ফেরত পাওয়া জরুরি হয়ে উঠেছে।
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক অ্যালান আইয়ার বলেন, বর্তমান আলোচনায় পারমাণবিক ইস্যুর চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে অর্থনৈতিক সুবিধা। তাঁর মতে, ইরান এখন মূলত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ক্ষতিপূরণ এবং বৈদেশিক সম্পদে প্রবেশাধিকার চাইছে।
সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালি নিয়েও নতুন করে আলোচনা সামনে এসেছে। ইরান ওই পথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে মাশুল আদায়ের প্রস্তাব তুললেও যুক্তরাষ্ট্র তা নাকচ করে দিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক জলপথে ইরানকে নিয়ন্ত্রণমূলক ভূমিকা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
এ অবস্থায় সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কুয়েতসহ উপসাগরীয় কয়েকটি দেশও ইরানের প্রস্তাবের বিরোধিতা করছে। তারা বিকল্প জ্বালানি ও বাণিজ্যপথ তৈরির দিকেও নজর দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ওপর থেকে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলে তা ইসরাইলের তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এর প্রভাব পড়বে। ফলে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের জটিলতায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।