
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুদীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন ও সংগ্রামের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী রবিউল আলম। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তারেক রহমানের হাত ধরেই ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়ে একটি সফল গণঅভ্যুত্থান সম্ভব হয়েছে। বর্তমান সংসদকে জনগণের সার্বভৌমত্বের প্রতীক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই পার্লামেন্ট কারও দয়ায় পাওয়া নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের অধিকারের প্রতিফলন।
দুই দশকের আত্মত্যাগের ইতিহাস
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে মন্ত্রী বিগত সরকারবিরোধী আন্দোলনের কঠিন দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, ‘১৭ বছরে আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন, ১ হাজার ৪০০ জন শহীদ হয়েছেন। আমরাও জীবন দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলাম।’
আন্দোলনে নিজের ব্যক্তিগত ত্যাগ ও নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে রবিউল আলম জানান, ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াই করতে গিয়ে তিনি ১৯৩টি মামলার খড়গ মাথায় নিয়েছেন এবং ৯ বার কারাবরণ করেছেন। ৯৭ দিন রিমান্ডের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা এবং ৩ দিন গুম থাকার দুঃসহ স্মৃতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী জীবনের ঝুঁকি নিয়েই তিনি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন।
বিরোধী দলকে শাণিত করার প্রস্তাব
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কেবল সরকারি দলের নয়, বরং সমগ্র সংসদের অভিভাবক হিসেবে অভিহিত করেন সেতুমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের প্রতিনিয়ত দিক-নির্দেশনা দিয়ে দক্ষ করে তুলছেন। তবে সংসদকে আরও মহিমান্বিত করতে বিরোধী দলের সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সান্নিধ্য ও কর্মশালার প্রস্তাব দেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘সংসদ নেতা আমাদের প্রতিনিয়ত শেখাচ্ছেন, দিক-নির্দেশনা দিচ্ছেন। তার নেতৃত্বে আমরা পরিপক্ক হচ্ছি। কিন্তু, তিনি যেহেতু সংসদ নেতা, তাই তিনি পুরো সংসদেরই নেতা। এটি শুধু সরকারি দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে পার্লামেন্ট মহিমান্বিত হবে না। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা কোন বিধিতে কী বলতে হয় বা কোন ইস্যুতে সোচ্চার হতে হয়, তা অনেক সময় যথাযথভাবে করতে পারছেন না। বিরোধী দলের সদস্যদের আরও শাণিত ও পরিপক্ক করতে প্রধানমন্ত্রী যদি কর্মশালা বা তাদের সান্নিধ্য দেওয়ার উদ্যোগ নেন, তবে তা জাতির বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করবে।’
ঐতিহাসিক উত্তরসূরি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
বক্তব্যে তিনি আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার হিসেবে জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান সশস্ত্র সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন প্রতিষ্ঠিত করেছেন।’ পাশাপাশি বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন সংগ্রাম এবং সংসদীয় ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালুর ক্ষেত্রে তার যুগান্তকারী ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।
সাবেক ক্ষমতাসীন দলের সমালোচনা করে রবিউল আলম বলেন, ১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত যে দলকে দেশের মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে কখনো ক্ষমতায় আনেনি, তাদের ক্ষোভ থাকাটা স্বাভাবিক। তিনি মন্তব্য করেন, নির্বাচনের আগে যাদের নিজেদের অপকর্মের জন্য ক্ষমা চাইতে হয়, তারা রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ।
২৬-এর নির্বাচন ও জনসমর্থন
মন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের নির্বাচনে জনগণ কোনোভাবেই বিভ্রান্ত হয়নি বলেই বিএনপিকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছে। তার দেওয়া তথ্যমতে, দেশের ৭১ শতাংশ মানুষ 'জুলাই সনদ' বাস্তবায়নের পক্ষে রায় দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘৭১ শতাংশ মানুষ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে রায় দিয়েছে। এর মধ্যে ৫১ শতাংশ মানুষ চেয়েছে বিএনপি যেভাবে সনদটি বাস্তবায়ন করতে চায়, সেভাবে হোক। বাকি ২০ শতাংশের চেয়ে ৫১ শতাংশের জনসমর্থনই অধিক গ্রহণযোগ্য। আমি বলব, রাজনীতি শিখুন, রাজনীতি করুন। মানুষকে বিভ্রান্ত করে লাভ নেই।’
পরিশেষে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে দেশের গণতান্ত্রিক ভিত আরও শক্তিশালী হবে এবং বাংলাদেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন সেতুমন্ত্রী।