
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের প্রবণতায় দেখা যাচ্ছে, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসকে পিছনে ফেলে সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। আর এই সম্ভাব্য ক্ষমতার পালাবদলের মধ্যেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে, রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হচ্ছেন।
সোমবার (৪ মে) বিকেলে ২৯৪ আসনের মধ্যে ভোট গণনার প্রবণতায় বিজেপি এগিয়ে ছিল ১৯৪টি আসনে। বিপরীতে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে ছিল ৯৪টি আসনে। এই ব্যবধানকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে।
তবে নির্বাচনী অঙ্কের বাইরে এখন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে একটাই বিষয়, বিজেপি ক্ষমতায় এলে কে হবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। দলটির সম্ভাব্য জয়ের আভাস স্পষ্ট হওয়ার পর থেকেই এই প্রশ্ন ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে।
নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে একজন ‘ভূমিপুত্র’ বা বাঙালিকেই সামনে আনা হতে পারে। সেই অবস্থান এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
দলীয় ও রাজনৈতিক সূত্রের বরাতে সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে কয়েকজনের নাম সামনে আসছে। এর মধ্যে রয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ও সুকান্ত মজুমদার, পাশাপাশি প্রাক্তন সাংবাদিক ও রাজ্যসভার সাবেক সদস্য স্বপন দাশগুপ্ত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপির এই সম্ভাব্য জয় নিশ্চিত হলে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে পরিণত হবে। কে দায়িত্ব পাচ্ছেন, তা নির্ধারণে স্থানীয় সমীকরণ, সাংগঠনিক প্রভাব এবং কেন্দ্রীয় আস্থাই প্রধান ভূমিকা রাখতে পারে।
এদিকে ফলাফলের প্রবণতায় পিছিয়ে পড়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। তবে সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে এখন একটাই আলোচনা, পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী আসলে কে হচ্ছেন, সেই সিদ্ধান্ত কবে এবং কীভাবে ঘোষণা করা হবে।