
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের পথ নিশ্চিত করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ২৯৩ আসনের বিধানসভায় ১৬৭টি আসনে জয় নিশ্চিত করে রাজ্যে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় যেতে চলেছে দলটি। অন্যদিকে দীর্ঘদিনের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস বড় ধাক্কা খেয়ে মাত্র ৫৯টি আসনে জয় পেয়েছে।
সোমবার (৪ মে) রাত ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে ভারতের নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত ফলাফলে এ চিত্র উঠে আসে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১৪৮ আসনের সীমা অনেক আগেই অতিক্রম করে বিজেপি।
দুই দফায় গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ হয় পশ্চিমবঙ্গে। নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেস টানা চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় ফেরার আশা প্রকাশ করলেও ফলাফলে উল্টো চিত্র দেখা যায়। ভোট গণনার শুরু থেকেই বিজেপি অধিকাংশ আসনে এগিয়ে থেকে শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে।
নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হয়ে উঠেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজ আসন ভবানীপুরে পরাজয়। তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান এই আসনে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরে যান। সর্বশেষ ফলাফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পান ৫৫ হাজার ৭৮২ ভোট। বিপরীতে শুভেন্দু অধিকারী পান ৬৬ হাজার ৭৮৫ ভোট। ফলে প্রায় ১১ হাজার ৩ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে জয় নিশ্চিত করেন বিজেপির এই নেতা।
এর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে ভবানীপুর উপনির্বাচনে জয় পেয়ে আবার বিধানসভায় ফেরেন মমতা। তবে এবারের নির্বাচনে নিজের শক্ত ঘাঁটিতেই পরাজিত হওয়ায় তার ১৫ বছরের শাসনের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে নন্দীগ্রাম আসনেও বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপি থেকে পদত্যাগ করা পবিত্র করকে প্রার্থী করলেও সেই কৌশল কার্যকর হয়নি। বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই আসনেও শুভেন্দুর ব্যবধান ১০ হাজার ভোটের বেশি।
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বিজেপি সমর্থকদের বিজয় মিছিল শুরু হয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূল শিবিরে দেখা দিয়েছে হতাশা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা।