
প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় যাত্রীশূন্য করা হয়েছে এমভি হন্দিয়াস নামের একটি প্রমোদতরী। জাহাজটি থেকে শেষ যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়ার পর আরও কয়েকজনের শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে বিভিন্ন দেশে।
মঙ্গলবার (১২ মে) আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, স্পেনের টেনেরিফ বন্দর ছেড়ে নেদারল্যান্ডসের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে প্রমোদতরীটি। এতে এখন কেবল ক্রু সদস্য ও চিকিৎসাকর্মীরা রয়েছেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের যাত্রীদের জাহাজ থেকে নামিয়ে নেওয়া হয়।
এ পর্যন্ত জাহাজসংশ্লিষ্ট অন্তত সাতজনের শরীরে হান্টাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। আরও কয়েকজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, স্পেন ও যুক্তরাজ্যের নাগরিকও রয়েছেন। ইতোমধ্যে তিন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্পেনের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোয়ারেন্টিনে থাকা এক ব্যক্তির শরীরেও ভাইরাসটির উপস্থিতি মিলেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়া আরও এক যাত্রীর মধ্যেও প্রাথমিক উপসর্গ দেখা গেছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কয়েকজনকে বিশেষ জীবাণুনিরোধ ইউনিটে রাখা হয়েছে।
ফ্রান্সের এক নারী যাত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তার সংস্পর্শে আসা অন্তত ২২ জনকে শনাক্ত করেছে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে হান্টাভাইরাস ছড়ালেও এর ‘অ্যান্ডিস’ ধরন মানুষ থেকেও মানুষে সংক্রমিত হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, দক্ষিণ আমেরিকা সফরের সময় জাহাজটির যাত্রীরা আক্রান্ত হয়েছেন।
ভাইরাসটির প্রধান উপসর্গের মধ্যে রয়েছে জ্বর, তীব্র ক্লান্তি, পেশিতে ব্যথা, বমি ও শ্বাসকষ্ট। তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, এটি বড় আকারে মহামারিতে রূপ নেওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক কম।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জাহাজ থেকে নামা যাত্রীদের দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দিলেও কয়েকটি দেশ ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করছে। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংস্থাটির মহাপরিচালক। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জনমনে আতঙ্ক না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, মানুষে মানুষে এই সংক্রমণ খুবই বিরল।